বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, রুট, ভাড়ার তালিকা, অফ ডে, স্টপেজ

By: TrainGuideBD

On: January 18, 2026

বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

বাংলাদেশে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার সবচেয়ে আরামদায়ক, নিরাপদ এবং বাজেট–বন্ধব মাধ্যম হলো ট্রেন। বিশেষ করে যখন কাউকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যাওয়া বা ভারত ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বর্ডারের কাছে পৌঁছাতে হয়, তখন বেনাপোল এক্সপ্রেস যেন যাত্রীদের জন্য এক নতুন আশীর্বাদ। এই ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে এবং প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দ্রুত, নিরাপদ এবং ঝামেলাহীন যাত্রার অভিজ্ঞতা দেয়। তাই অনেকেই জানার চেষ্টা করেন বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , রুট, ভাড়ার তালিকা, অফ ডে, স্টপেজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। এই গাইডটি সেই চাহিদা থেকেই লেখা—সহজ ভাষায়, বন্ধুর মতো গল্প করে সব তথ্য তুলে ধরার জন্য।

এই ট্রেনটি শুধু দূরত্ব কমায় না, বরং যাত্রীদের রাতের মধ্যে যাত্রা শেষ করার বাড়তি সুবিধাও দেয়। অনেকের জন্য বেনাপোল বন্দর মানে ভারত ভ্রমণের দুয়ার। তাই রাতের ট্রেন ধরে সকালে বর্ডারে পৌঁছে যাওয়া যেন ভ্রমণকারীদের জন্য এক স্বস্তির বাতাস। আধুনিক সুবিধা, আরামদায়ক পরিবেশ এবং সময়মতো ছাড়ার কারণে এই ট্রেনটি আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তঃনগর সার্ভিস।

এই আর্টিকেলে আমরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু সাজিয়ে দিচ্ছি। যাতে আপনি সহজেই বুঝতে পারেন কখন ট্রেন ছাড়ে, কোথায় থামে, কোন কোচে কত ভাড়া, ট্রেনের বিশেষ সুবিধা কী, এবং যাত্রার আগে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত। চলুন শুরু করি।


Table of Contents

বেনাপোল এক্সপ্রেসের পরিচয়: যাত্রীদের কাছে কেন এত জনপ্রিয়

বেনাপোল এক্সপ্রেস এমন একটি ট্রেন যা তৈরি হয়েছে মূলত দীর্ঘ রুটে আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে। এই ট্রেনে ১২টি আধুনিক কোচ রয়েছে এবং মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮৯৬ জন। ট্রেনটির নকশা তৈরি হয়েছে দীর্ঘ রুটের মান মাথায় রেখে—নরম চেয়ারের আরাম, শক্তিশালী এয়ার ব্রেক, প্রশস্ত করিডোর এবং বায়ো-টয়লেটের সুবিধা যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও মনোরম করে।

এই ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলে—এবং বুধবার এর সাপ্তাহিক ছুটি। এ কারণে যারা সীমান্তবর্তী বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেন, তাদের কাছে ট্রেনটি অনেক নির্ভরযোগ্য। ঢাকা থেকে বেনাপোল যেতে মাত্র ৮ ঘণ্টা লাগে, যা বাসের তুলনায় অনেক কম এবং আরামদায়ক। রাত ১১টার পর ট্রেনে চড়লে সকালে বেনাপোল পৌঁছানো যায়—বর্ডারের কাজ শুরু হওয়ার আগেই।

বেনাপোল এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে:

  • আধুনিক অটোমেটিক এয়ার ব্রেক সিস্টেম
  • নিরাপদ স্লাইডিং ডোর
  • ডিজিটাল ডিসপ্লে
  • আধুনিক ও আরামদায়ক চেয়ার
  • AC বার্থ ও AC কেবিন
  • ট্রেনের ভিতরে মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা
  • টিভি, ওয়াই-ফাই ও মোবাইল চার্জিং পোর্ট
  • অজুখানা ও নামাজ ঘর
  • পরিবেশ-বান্ধব বায়ো-টয়লেট

এই সুবিধাগুলো যাত্রা আরও স্বচ্ছন্দ করে এবং দীর্ঘ রুটেও ক্লান্তি অনুভূত হয় না।


বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী (ঢাকা–বেনাপোল ও বেনাপোল–ঢাকা)

বেশিরভাগ যাত্রীই প্রথমে জানতে চান বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , রুট, ভাড়ার তালিকা, অফ ডে, স্টপেজ—কারণ ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি হয় সময়ের ওপর ভিত্তি করে। আপনার যাত্রা সহজ করতে নিচে আমরা সময়গুলো সাজিয়ে দিচ্ছি।

ঢাকা থেকে বেনাপোল যাওয়ার সময়সূচী

ঢাকা থেকে ট্রেনটি ছাড়ে রাত ১১:৩০ মিনিটে। রাতভর পথ পাড়ি দিয়ে ভোরের মধ্যে বিভিন্ন স্টেশন অতিক্রম করে সকাল ৭:০০ টায় বেনাপোলে পৌঁছায়। যারা রাতভর আরামে ঘুমিয়ে ভোরে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে দারুণ একটি সুবিধা।

স্টেশনসময়
ঢাকা (কমলাপুর)রাত ১১:৩০
ভাঙ্গারাত ১২:৪২
ফরিদপুররাত ০১:১৬
রাজবাড়িরাত ০২:০০
খোকসারাত ০২:৩৮
কুষ্টিয়া কোর্টরাত ০৩:০৪
পোড়াদহরাত ০৩:২৩
চুয়াডাঙ্গারাত ০৩:৫৫
দর্শনা হল্টরাত ০৪:১৯
কোটচাঁদপুরভোর ০৪:৪৬
মোবারকগঞ্জভোর ০৫:০০
যশোরভোর ০৬:০০
ঝিকরগাছাভোর ০৬:২১
বেনাপোলসকাল ০৭:০০

বেনাপোল থেকে ঢাকা ফেরার সময়সূচী

ফেরার সময়টিও খুব সুবিধাজনক। দুপুরে ট্রেন ধরলে সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকায় পৌঁছে যাওয়া যায়।

স্টেশনসময়
বেনাপোলদুপুর ১২:২৫
ঝিকরগাছাদুপুর ১২:৫৭
যশোরদুপুর ০১:৪০
মোবারকগঞ্জদুপুর ০২:২১
কোটচাঁদপুরবিকেল ০২:৩৫
দর্শনা হল্টবিকেল ০৩:০২
চুয়াডাঙ্গাবিকেল ০৩:২৯
পোড়াদহবিকেল ০৪:০০
কুষ্টিয়া কোর্টবিকেল ০৪:১৫
খোকসাবিকেল ০৪:৫১
রাজবাড়িসন্ধ্যা ০৫:৫০
ফরিদপুরসন্ধ্যা ০৬:২৫
ভাঙ্গাসন্ধ্যা ০৬:৫৮
ঢাকারাত ০৮:৩০

নোট: যশোরে ২০ মিনিট বিরতি থাকে যাত্রী তুলতে ও ইঞ্জিন ঘোরাতে।


বেনাপোল এক্সপ্রেসের রুট: দীর্ঘ কিন্তু আরামদায়ক যাত্রা

বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , রুট, ভাড়ার তালিকা, অফ ডে, স্টপেজ নিয়ে ধারণা পেতে হলে রুটটি জানা জরুরি। পুরো রুটটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি হয়েছে যাতে যাত্রীরা বড় শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো পেরিয়ে সহজে বেনাপোল পৌঁছাতে পারেন।

রুটটি হলো:
ঢাকা → ভাঙ্গা → ফরিদপুর → রাজবাড়ি → খোকসা → কুষ্টিয়া কোর্ট → পোড়াদহ → চুয়াডাঙ্গা → দর্শনা → কোটচাঁদপুর → মোবারকগঞ্জ → যশোর → ঝিকরগাছা → বেনাপোল

এই রুটে পাহাড় নেই, বড় নদী নেই—তাই ট্রেন সহজেই মসৃণভাবে চলে। রাতের মধ্যে ট্রেন চলে বলে জনসমাগম কম থাকে, ফলে ট্রেন সময়ও মেনে চলে।


স্টপেজসমূহ: কোথায় কোথায় থামে ট্রেন

যাত্রীরা প্রায়ই জানতে চান তারা কোন স্টেশনে উঠতে পারবেন। তাই এখানে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজগুলো স্পষ্টভাবে দেওয়া হলো:

  • ঢাকায় কমলাপুর
  • ভাঙ্গা
  • ফরিদপুর
  • রাজবাড়ি
  • খোকসা
  • কুষ্টিয়া কোর্ট
  • পোড়াদহ
  • চুয়াডাঙ্গা
  • দর্শনা হল্ট
  • কোটচাঁদপুর
  • মোবারকগঞ্জ
  • যশোর
  • ঝিকরগাছা
  • বেনাপোল

এই স্টপেজগুলো এমনভাবে সাজানো যে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ি কিংবা ফরিদপুরের যাত্রীরাও সহজেই ট্রেনে উঠতে পারেন।


বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন ভাড়ার তালিকা: কোন কোচে কত ভাড়া

এবার আসা যাক সবচেয়ে জরুরি তথ্য—ভাড়া। অনেকেই বাজেট করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করেন। তাই এখানে ভাড়ার টেবিলটি তুলে ধরা হলো।

স্টেশনশোভন চেয়ারএসি চেয়ারএসি বার্থ / AC Seat
ঢাকা – বেনাপোল৬০০ টাকা১১৫০ টাকা২১১৫ টাকা
ঢাকা – চুয়াডাঙ্গা৪৬৫ টাকা৮৮৬ টাকা১৬৪৩ টাকা
ঢাকা – যশোর৫৬০ টাকা১০৭০ টাকা১৯৭৭ টাকা
বেনাপোল – ঢাকা৬০০ টাকা১১৫০ টাকা১৩৮০ টাকা
বেনাপোল – চুয়াডাঙ্গা১৪০ টাকা২৭১ টাকা৩২২ টাকা
যশোর – ঢাকা৫৬০ টাকা১০৭০ টাকা১২৮৩ টাকা

অতিরিক্ত খরচ:

  • অনলাইন টিকিটে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ
  • AC_B/F_BERTH টিকিটে ৫০ টাকা বেডিং চার্জ

এগুলো মাথায় রেখে টিকিট কাটলেই আর কোনো ঝামেলা থাকে না।


সাপ্তাহিক বন্ধ: কোন দিন ট্রেন চলে না

অনেক সময় যাত্রীরা ভুল দিনে স্টেশনে চলে যান—তারপর জানতে পারেন ট্রেন নেই। তাই মনে রাখার মতো তথ্য হলো:

বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন বুধবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।

অর্থাৎ সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে।টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া: কিভাবে দ্রুত টিকিট নিশ্চিত করবেন

ট্রেনযাত্রার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো সময়মতো টিকিট পাওয়া। বিশেষ করে জনপ্রিয় রুট যেমন ঢাকা থেকে বেনাপোল, সেখানে অনেক যাত্রী থাকে। তাই যাত্রার আগে টিকিট নিশ্চিত করা জরুরি। আপনি অনলাইনে বা অফলাইনে যেকোনো একটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। অনলাইন টিকিট কাটলে আপনার সময় বাঁচবে, লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না এবং টিকিট হাতছাড়া হওয়ার ভয়ও থাকে না। বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ দুটোই বেশ সহজ। নাম, ফোন নম্বর আর এনআইডি দিলে মাত্র কয়েক মিনিটেই টিকিট কাটা যায়।

তবে মনে রাখতে হবে, অনলাইনে টিকিট কাটলে ভাড়ার সাথে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত হবে। আর যদি আপনি AC বার্থ বা AC কেবিনের টিকিট কাটেন, তাহলে বেডিং চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত ৫০ টাকা দিতে হবে। অনেক যাত্রী ভাবেন এই চার্জ কি বাধ্যতামূলক—হ্যাঁ, এ ধরনের টিকিটে বেডিং অবশ্যই যুক্ত থাকে। আরেকটি পরামর্শ হলো, সরকারি ছুটি বা উৎসবের আগে আগে টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ দিন আগে টিকিট কাটলে নিশ্চিন্তে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।


বেনাপোল এক্সপ্রেস: ট্রেনের আধুনিক সুবিধা ও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

আজকাল ট্রেন ভ্রমণ মানেই শুধু এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়া নয়। মানুষ এখন চায় আরাম, নিরাপত্তা এবং নিখুঁত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। বেনাপোল এক্সপ্রেস ঠিক এই জায়গাতেই যাত্রীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ট্রেনটি একটি ‘ক’ শ্রেণির আন্তঃনগর ট্রেন, যার প্রতিটি কোচ ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা। ফলে কোচের মান, সিটের ডিজাইন এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অন্যান্য সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেক উন্নত।

এই ট্রেনে আছে টিভি, ওয়াই-ফাই, চার্জিং পোর্ট—যা দীর্ঘ ভ্রমণে আপনাকে ব্যস্ত রাখবে এবং আরাম দেবে। স্লাইডিং ডোরগুলো অটোমেটিক এবং নিরাপদ, তাই বাচ্চা বা বৃদ্ধ যাত্রী নিয়ে ভ্রমণ করলে বাড়তি সতর্ক হতে হয় না। কোচের ভিতরে রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে, যেখানে বর্তমান স্টেশন, গতি এবং পরবর্তী স্টপেজ দেখানো হয়। ট্রেনে আধুনিক বায়ো-টয়লেট আছে, যা পরিবেশবান্ধব এবং দুর্গন্ধহীন। নামাজের জায়গা ও অজুখানাও রয়েছে, যা দীর্ঘ রুটের ট্রেনে যাত্রীদের জন্য বড় সুবিধা।

খাবার নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। ট্রেনে রেলওয়ের নিজস্ব ক্যাটারিং সার্ভিস আছে, যেখানে ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে ডিনার পর্যন্ত পেয়ে যাবেন। খাবার তাজা থাকে এবং দামও অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় মানানসই। এসব সুবিধা বেনাপোল এক্সপ্রেসকে শুধু একটি ট্রেন নয়, বরং যাত্রীদের দৈনন্দিন ভ্রমণের বিশ্বস্ত সঙ্গী বানিয়েছে।


কেন এত যাত্রী বেনাপোল এক্সপ্রেস বেছে নেন?

প্রতিদিন এত মানুষ কেন এই ট্রেনটি বেছে নেন, তার পিছনে কয়েকটি বড় কারণ আছে। প্রথমত, এই ট্রেনে ভ্রমণের সময় রাত এবং সকাল দুইটিই কাজে লাগে। ঢাকা থেকে রাত ১১:৩০-এ রওনা দিলে যাত্রী সকালে ৭:০০-এ বেনাপোল পৌঁছে যেতে পারে। যারা ভারত যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসেন, তাদের জন্য এই সময়টা খুব সুবিধাজনক। সীমান্তে দিনের শুরুতেই সব কাজ করতে পারা যায়।

দ্বিতীয়ত, ট্রেনটি বিরতিহীন হওয়ায় সময় অপচয় হয় না। মাঝপথে থামে বটে, কিন্তু বড় কোনো দেরি হয় না। যারা কাজের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন, তারা এটাই সবচেয়ে বেশি বিবেচনা করেন। তৃতীয় কারণ হলো আরাম। বাসে ৮–৯ ঘণ্টা বসে থাকা কষ্টের, কিন্তু ট্রেনে সিট বড়, টয়লেট আছে, হাঁটাহাঁটি করা যায়, আর রাতে সহজেই ঘুমানো যায়। এছাড়া নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা এবং ভদ্র যাত্রী পরিবেশ—সব মিলিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেস যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি করেছে।


যাত্রার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

যাত্রীদের সুবিধার জন্য কিছু টিপস সবসময় কার্যকর। বিশেষ করে আপনি যদি প্রথমবার বেনাপোল এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করেন, তাহলে নিচের টিপসগুলো কাজে লাগবে:

  • স্টেশনে অন্তত ৩০ মিনিট আগে পৌঁছান।
  • পরিচয়পত্র (NID/পাসপোর্ট/ড্রাইভিং লাইসেন্স) সাথে রাখুন।
  • অনলাইন টিকিটের প্রিন্ট বা স্ক্রিনশট সাথে রাখুন।
  • রাতের যাত্রায় আরামদায়ক পোশাক পরুন।
  • পানি, শুকনো খাবার এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখবেন।
  • যদি বেষ্ট লাগেজ থাকে, কোচে ওঠার সময় তা সিটের উপরের র্যাক বা নিচে ভালোভাবে রাখুন।
  • বাচ্চা সাথে থাকলে তাদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত নজর রাখুন।

এসব ছোট বিষয় মনে রাখলে যাত্রা আরও সুন্দর হবে।


ট্রেন সম্পর্কিত জরুরি যোগাযোগ

ভ্রমণের আগে বা প্রয়োজন হলে নিচের হেল্পলাইন ব্যবহার করতে পারেন:

  • কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
  • রেলওয়ে হটলাইন: ১৩১
  • ফোন: ০২-৯৩৫৮৬৩৪
  • মোবাইল: ০১৭১১-৬৯১৬১২
  • ওয়েবসাইট: railway.gov.bd

প্রশ্নোত্তর (FAQs)

নিচে যাত্রীদের সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো। এগুলো আপনাকে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , রুট, ভাড়ার তালিকা, অফ ডে, স্টপেজ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা দেবে।

১. বেনাপোল এক্সপ্রেস সপ্তাহে কয় দিন চলে?

ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন চলে। বুধবার সাপ্তাহিক ছুটি।

২. ঢাকা থেকে বেনাপোল যেতে কত সময় লাগে?

মোট সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা।

৩. অনলাইন টিকিট বুক করতে অতিরিক্ত চার্জ লাগে কি?

হ্যাঁ, অনলাইন বুকিং-এ ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়।

৪. AC বার্থে কি বেডিং চার্জ আলাদা দিতে হয়?

জি, AC বার্থ বা AC কেবিনে ৫০ টাকা বেডিং চার্জ যুক্ত হয়।

৫. বেনাপোল এক্সপ্রেস কোথায় কোথায় থামে?

ঢাকা, ভাঙ্গা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, খোকসা, কুষ্টিয়া, পোড়াদহ, চুয়াডাঙ্গা, দর্শনা, কোটচাঁদপুর, মোবারকগঞ্জ, যশোর, ঝিকরগাছা এবং বেনাপোল।

৬. এই ট্রেনে খাবারের ব্যবস্থা আছে কি?

হ্যাঁ, রেলওয়ের নিজের ক্যাটারিং সার্ভিস রয়েছে।

৭. বেনাপোল থেকে ঢাকায় ফেরার ট্রেন কখন ছাড়ে?

দুপুর ১২:২৫ মিনিটে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসে।

৮. ট্রেনে ওয়াই-ফাই সুবিধা আছে কি?

হ্যাঁ, আধুনিক ওয়াই-ফাই সিস্টেম রয়েছে।


শেষ কথা

এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে দেখেছি বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , রুট, ভাড়ার তালিকা, অফ ডে, স্টপেজ সহ যাত্রার সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। রাতের মধ্যে ঢাকা থেকে বেনাপোল যাওয়া এবং সকালে সীমান্তে কাজ শুরু করা সত্যিই ভ্রমণকারীদের জন্য বড় সুবিধা। এই ট্রেনের আধুনিক সুবিধা, সময়ানুবর্তিতা এবং নিরাপদ ভ্রমণ যাত্রীদের কাছে একে নির্ভরযোগ্য বানিয়েছে। তাই আপনি যদি খুব শিগগিরই বেনাপোল–ঢাকা রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তাহলে বেনাপোল এক্সপ্রেস হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ।

TrainGuideBD

At TrainGuideBD, our mission is simple: to make your train travel experience in Bangladesh easier, faster, and more convenient.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment