কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, কোথায় থামে, রুট ও অফ ডে

By: TrainGuideBD

On: December 3, 2025

বাংলাদেশের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস এমন একটি জনপ্রিয় ট্রেন, যা প্রতিদিন হাজারো যাত্রীকে রাজশাহী থেকে খুলনা পর্যন্ত আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ দেয়। অনেকেই প্রথমবার এই রুটে ভ্রমণ করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন—কখন ট্রেন ছাড়ে, কোন স্টেশনে থামে, ভাড়ার তালিকায় কী পরিবর্তন আছে, কিংবা সাপ্তাহিক ছুটি কোনদিন। তাই আজকের এই বিশদ গাইডে আমরা জানবো কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , ভাড়ার তালিকা, কোথায় থামে, রুট, অফ ডে সম্পর্কে সব তথ্য সহজ ভাষায়, আলাপচারিতার মতো করে।

যেমন বন্ধুকে ভ্রমণ টিপস দিই, তেমন করে এখানে সব তথ্য সাজানো হয়েছে।


Table of Contents

কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের পরিচিতি – রাজশাহী–খুলনা ভ্রমণের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী

রাজশাহী থেকে খুলনা—এই পথটি শুধু দুটি শহরকে নয়, কৃষি অঞ্চল, শিল্প এলাকা এবং ব্যবসায়িক কেন্দ্রকে এক সুতোয় বেঁধেছে। এই রুটে যারা নিয়মিত বা মাঝে মাঝে ভ্রমণ করেন, তারা প্রায় সবাই কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস–এর উপর ভরসা রাখেন। কারণ ট্রেনটি সময়মতো ছেড়ে সময়মতো পৌঁছানোর জন্য সুপরিচিত।
বন্ধুকে গল্প করতে করতে ভ্রমণ করার মতোই আরাম পাওয়া যায় এই ট্রেনে। শীতল বাতাস, জানালা দিয়ে দেখা সবুজ মাঠ এবং আরামদায়ক কোচ—সব মিলিয়ে একটি শান্ত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেয়।

কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৫/৭১৬) হলো একটি আন্তঃনগর ট্রেন যা সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করে। যাত্রা সময়, খাদ্য–পানীয়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা—সবকিছুই যাত্রীদের সন্তুষ্ট করতে তৈরি। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এর ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম, ফলে সাধারণ মানুষ সহজেই এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারে।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী – উভয় দিকের সম্পূর্ণ তালিকা

অনেক যাত্রীই ভ্রমণের আগে “ট্রেন কখন ছাড়বে?”, “কখন পৌঁছাবে?”, “অফ ডে কবে?”—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান। তাই এখানে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হলো কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , ভাড়ার তালিকা, কোথায় থামে, রুট, অফ ডে অনুযায়ী সঠিক তথ্য।

নিচের সময়সূচী ২০২৫ সালের হালনাগাদ সময় অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে।

রাজশাহী থেকে খুলনা – ট্রেন নাম্বার ৭১৫

  • ছাড়ার সময়: ১৪:৩০
  • পৌঁছানোর সময়: ২০:১৫
  • মোট সময়: আনুমানিক ৫ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
  • অফ ডে: শুক্রবার

খুলনা থেকে রাজশাহী – ট্রেন নাম্বার ৭১৬

  • ছাড়ার সময়: ০৬:৪৫
  • পৌঁছানোর সময়: ১২:২০
  • মোট সময়: আনুমানিক ৫ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট
  • অফ ডে: শুক্রবার

এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে যাত্রার শুরু বা গন্তব্য যাই হোক, শুক্রবার দিনটি ট্রেনটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। সাধারণভাবে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সপ্তাহে একদিন রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য বন্ধ থাকে। কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসও তার ব্যতিক্রম নয়।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

রুটঅফ ডেছাড়ার সময়পৌঁছানোর সময়
রাজশাহী → খুলনাশুক্রবার১৪:৩০২০:১৫
খুলনা → রাজশাহীশুক্রবার০৬:৪৫১২:২০

এই টেবিলটি দেখে এক নজরে পুরো সময়সূচী মনে রাখা যায়। ভ্রমণের আগে এই তথ্য হাতে থাকলে ভুল–বিভ্রাট হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস কোথায় থামে – সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা

যারা প্রথমবার রাজশাহী থেকে খুলনা বা খুলনা থেকে রাজশাহী যাবেন, তারা প্রায়ই জানতে চান, মাঝপথে কোন কোন স্টেশনে ট্রেনটি থামে। কারণ অনেকের গন্তব্য বড় শহর নয়, বরং ছোট শহর বা উপজেলা। তাই এখানে দেওয়া হল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস কোথায় থামে তার পূর্ণ তালিকা।

এই স্টেশনগুলো এমনভাবে সাজানো যে প্রায় প্রত্যেক যাত্রীর প্রয়োজন মিটে যায়। কেউ নওয়াপাড়ায় নামতে চান, আবার কেউ চুয়াডাঙ্গা বা ঈশ্বরদী পর্যন্ত যান—সবাই এই ট্রেনের সুবিধা পান।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের বিরতি স্টেশন ও সময়সূচী

বিরতি স্টেশন নামরাজশাহী থেকে (৭১৫)খুলনা থেকে (৭১৬)
নওয়াপাড়া০৭:১৮১৯:৩৭
যশোর০৭:৪৯১৯:০৫
মোবারকগঞ্জ০৭:১৯১৮:৩১
কোটচাঁদপুর০৮:৩২১৮:১৭
দর্শনা০৯:০৩১৭:৩৩
চুয়াডাঙ্গা০৯:২৫১৭:১০
আলমডাঙ্গা০৯:৪৪১৬:৫০
পোড়াদহ১০:০০১৬:৩৪
মিরপুর১০:১৩১৬:২২
ভেড়ামারা১০:২৫১৬:০৯
পাকশী১০:৩৯১৫:৫৫
ঈশ্বরদী১০:৫০১৫:৩০
আজিম নগর১১:২২১৫:১৬

এগুলো দেখে বোঝা যায় ট্রেনটি ধীরে ধীরে রাজশাহী অঞ্চল ছাড়িয়ে ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত পৌঁছায়। এই রুটের সবচেয়ে ব্যস্ত স্টেশনগুলোর মধ্যে ঈশ্বরদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা অন্যতম।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট – রাজশাহী থেকে খুলনা পর্যন্ত পথচলার গল্প

এই অংশে আমরা একটু গল্পের মতো করে বুঝে নেব এই ট্রেনের সম্পূর্ণ যাত্রাপথ।
রাজশাহী থেকে ট্রেনটি যখন ছেড়ে দেয়, চারপাশে দেখা যায় আম–কাঁঠালের বাগান, সবুজ মাঠ আর শান্ত গ্রামের পরিবেশ। ধীরে ধীরে ট্রেনটি যায় ঈশ্বরদী জংশনের দিকে, যা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল–সংযোগ পয়েন্ট।

এরপর ট্রেনটি বর্ষার সময় নদীর পাড় ধরে চলে। নদীর মাঝখানে সূর্যের আলো পড়লে সেই দৃশ্য যেন ছবির মতো লাগে। চুয়াডাঙ্গা পার হয়ে যখন ট্রেনটি দর্শনায় পৌঁছে, তখন যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়। কারণ দর্শনা সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার পরিবেশই আলাদা।
এরপর যশোরে পৌঁছালে শহরের কোলাহল, বাজারের গন্ধ, মানুষের ব্যস্ততা—সব কিছু নতুন করে চোখে পড়ে।
সর্বশেষে খুলনায় পৌঁছালে শিল্প এলাকা ও নদীবন্দর এলাকার আমেজ একেবারে ভিন্ন অনুভূতি দেয়।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা – ২০২৫ সালের হালনাগাদ ভাড়া

এখন আমরা আসছি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে—ভাড়ার তালিকা। কারণ ভ্রমণের আগে খরচ কত পড়বে সেটা জানা জরুরি।

এই ট্রেনে দুটি প্রধান আসন বিভাগ রয়েছে:

  • শোভন চেয়ার
  • এসি সিট

উভয় আসনই আরামদায়ক, তবে এসি সিট তুলনামূলক বেশি বিলাসবহুল।

কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা (১৫% ভ্যাটসহ)

আসন বিভাগটিকেট মূল্য
শোভন চেয়ার৩৬০ টাকা
এসি সিট৮২৮ টাকা

এই ভাড়াটি দেখে বোঝাই যায়, সাধারণ যাত্রীদের জন্য শোভন চেয়ার বেশ সাশ্রয়ী। আর যারা অফিস ট্রাভেল বা আরামদায়ক সিট চান তারা এসি সিট বেছে নিতে পারেন।কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে যাত্রা কেন আরামদায়ক – যাত্রী অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্লেষণ

আমি নিজে রাজশাহী থেকে খুলনা ভ্রমণ করেছি বহুবার, এবং বলতে গেলে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বেশ শান্তিপূর্ণ। যারা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এটি আরও উপযোগী, কারণ ট্রেনের পরিবেশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। কোচগুলো বাতাস চলাচলের জন্য উপযুক্ত, আর যাত্রাকালে জানালার পাশে বসলে দেখা যায় গ্রামের ফুটফুটে ছবি—ধানের সবুজ মাঠ, মাটির বাড়ি আর গ্রামীণ জীবনযাপনের সরল দৃশ্য।

ট্রেনের ভেতরে অতিরিক্ত ভিড় থাকে না। ফলে সিট নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয় না। বিশেষ করে যারা সকালবেলা খুলনা থেকে রাজশাহী আসেন, তারা প্রফেশনাল ভ্রমণ বা অফিসিয়াল কাজের জন্য সময়মতো পৌঁছাতে পারেন।
এই সব মিলিয়ে ট্রেনটি মানুষের কাছে নিয়মিত ভরসার জায়গা তৈরি করেছে।


কোন ধরনের যাত্রী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করেন – ট্রেন ব্যবহারের বাস্তব চিত্র

এই ট্রেনে ভ্রমণ করলে দেখতে পাবেন নানা ধরনের যাত্রী। কেউ ছাত্র, কেউ চাকরিজীবী, কেউ আবার ব্যবসায়ী। বিশেষ করে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও ঈশ্বরদী থেকে ভ্রমণকারীর সংখ্যা বেশি।
একটি বিষয় সবসময় মনে হয়—এই ট্রেনটি যেন সাধারণ মানুষের ট্রেন।
কারণ ভাড়া কম, সময়মতো পৌঁছায়, স্টেশন বেশি, সুবিধা যথেষ্ট।

যারা বাজার করতে খুলনা বা রাজশাহী শহরে যান, তারা প্রায়ই এই ট্রেন ব্যবহার করেন। আবার এলাকার কৃষকরা অনেক সময় রাজশাহীর পাইকারি বাজারে পণ্য নিয়ে যেতে ট্রেনকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন।
ফলে এটি শুধু যাত্রী নয়, অর্থনৈতিক সংযোগও সৃষ্টি করে।


অনলাইন টিকিট কেনার সুবিধা – ডিজিটাল বাংলাদেশে সহজ ভ্রমণ ব্যবস্থা

এখন আর টিকিটের জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর দিন নেই। আপনি সহজেই eticket.railway.gov.bd থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের টিকিট বুক করতে পারেন।
শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুললেই হবে। এরপর ট্রেন, তারিখ, রুট—সব নির্বাচন করে পেমেন্ট করলেই টিকিট তৈরি হয়ে যায়।
আমি নিজে কয়েকবার অনলাইনে টিকিট কিনেছি এবং আশ্চর্য হয়েছি কত সহজে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়।

অনলাইন টিকিট কেনার সুবিধা:

  • ঘরে বসে টিকিট বুকিং
  • মোবাইলেই টিকিট পাওয়া যায়
  • সিট নির্বাচন করা যায়
  • ঝামেলা নেই, সময় সাশ্রয় হয়

তবে অনলাইন টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। বিশেষত সপ্তাহের শুরুতে বা ছুটির সময় এই রুট খুব ব্যস্ত থাকে। তাই আগে থেকেই টিকিট কাটা উত্তম।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস রুট বিশ্লেষণ – কোন অংশে পথ সবচেয়ে সুন্দর

যাত্রার শুরুতে রাজশাহীর গ্রামীণ পরিবেশ মন ভালো করে দেয়।
ঈশ্বরদী পর্যন্ত রুটটি খুবই সুন্দর কারণ এই পথজুড়ে রয়েছে নদী, সেতু, গাছপালা আর উঁচু-নিচু সবুজ মাঠ।
চুয়াডাঙ্গা পর্যন্ত অংশটি একটু জনবহুল।
দর্শনা ও কোটচাঁদপুরের পথ বেশ শান্ত, এখানে ট্রেনের গতি তুলনামূলক বেশি থাকে।
যশোরের কাছাকাছি পৌঁছালে মানুষের ব্যস্ততা দেখা যায় এবং বড় বড় বাজার চোখে পড়ে।
খুলনার শেষাংশে শিল্প এলাকা, ছোট নদী আর নৌকার সারি—সব মিলিয়ে ভ্রমণ যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

রুটের এই বৈচিত্র্য ট্রেন যাত্রাকে কখনও একঘেয়ে হতে দেয় না। বরং প্রতিটি অংশের আলাদা সৌন্দর্য যাত্রীদের আনন্দ দেয়।


টিকিট মূল্য তুলনামূলক বিশ্লেষণ – অন্যান্য আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে পার্থক্য

ভাড়া কম—এটাই কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সবচেয়ে বড় সুবিধা।
শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৬০ টাকা, যা এই দূরত্বের জন্য অনেক সাশ্রয়ী।
একই রুটে চলা অন্য আন্তঃনগর ট্রেন যেমন সুন্দরবন এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেস তুলনামূলকভাবে বেশি ভাড়া নেয়।

বাজেট ট্রাভেল করতে চাইলে এই ট্রেনটি সেরা পছন্দ।
তবে এসি সিটের মূল্যও যুক্তিযুক্ত। ৮২৮ টাকা দিয়ে আরামদায়ক ভ্রমণ পাওয়া যায়, যা দীর্ঘভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ।


যাত্রীদের জন্য বিশেষ টিপস – ভ্রমণকে আরও সহজ করার উপায়

যেমন বন্ধুকে পরামর্শ দিই, তেমন করে নিচে কিছু দরকারি টিপস দিলাম:

  • ভ্রমণের আগে অবশ্যই কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , ভাড়ার তালিকা, কোথায় থামে, রুট, অফ ডে দেখে নিন।
  • অনলাইন টিকিট না পেলে স্টেশনে আগেভাগে যান।
  • যশোর, ঈশ্বরদী বা চুয়াডাঙ্গা থেকে উঠলে সিট নিশ্চিত করতে আগে যান।
  • পরিবারসহ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এসি সিট আরও আরামদায়ক।
  • ট্রেনের মাঝে মাঝে ভিড় বেড়ে যায়, তাই নিজের জিনিসপত্র নিরাপদে রাখুন।
  • ট্রেনের সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে, তাই ভ্রমণের আগের দিন চেক করা ভালো।

ভ্রমণ অভিজ্ঞতা – যাত্রীর গল্পে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের বাস্তব চিত্র

আমি একবার পরিবার নিয়ে খুলনা যাচ্ছিলাম। রাজশাহী স্টেশনে পৌঁছে দেখি ট্রেনটা ঠিক সময়ে এসেছে। আমরা শোভন চেয়ারে উঠেছিলাম। জানালার পাশে বসে আমার ছোট ভাই বলেছিল—
“এই পথটা যেন ছবির মতো।”
সত্যিই তাই।
গ্রামের শান্ত পরিবেশ, ধানক্ষেতের মাঝখানে সূর্যের আলো, ফসলের গন্ধ—সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল এক ধরনের শান্তি।
এক জায়গায় দেখেছিলাম কৃষকরা ক্ষেতের ধান কাটছে।
আরেক জায়গায় বাচ্চারা খেলছে।
এমন দৃশ্য গাড়িতে ভ্রমণ করলে সবসময় মিস হয়ে যায়।
ট্রেনই একমাত্র মাধ্যম যা আপনাকে গ্রামের ভিতর দিয়ে নিয়ে চলে।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে নিরাপত্তা ও সুবিধা – যাত্রীদের কি কি পাওয়া যায়

নিরাপত্তা এখন ভ্রমণের সবচেয়ে বড় বিষয়।
এই ট্রেনে নিরাপত্তাকর্মী, টিকিট পরিদর্শক ও পুলিশ সদস্য নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন।
জরুরি প্রয়োজনে স্টেশনে নেমে সাহায্য পাওয়া যায়।

ট্রেনে সাধারণ সুবিধাগুলো:

  • পরিষ্কার টয়লেট
  • পর্যাপ্ত আলো
  • নিরাপত্তা টহল
  • ওয়াশবেসিন
  • শিশুদের জন্য সিট ব্যবস্থা
  • লাগেজ রাখার জায়গা

এগুলো সাধারণ হলেও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


কখন এই ট্রেনে ভিড় বেশি থাকে – যাত্রী প্রবণতার হিসাব

যদি আরাম করে ভ্রমণ করতে চান, তবে কিছু সময় বাদ দেওয়া ভালো।
পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:

  • সপ্তাহের শুরুতে (শনিবার, রোববার)
  • সরকারি ছুটির আগের দিন
  • উৎসবের সময়
  • কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সময়

এই দিনগুলোতে ভিড় তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে যশোর–ঈশ্বরদী সেকশনে সিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।


কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সামগ্রিক সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা

  • ভাড়া সাশ্রয়ী
  • সময়মতো পৌঁছে
  • স্টেশন সংখ্যা বেশি
  • অনলাইন টিকিট পাওয়া যায়
  • পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য উপযোগী
  • যাত্রাপথ সুন্দর

অসুবিধা

  • কিছু কোচে বয়স্ক অবস্থা দেখা যায়
  • মাঝে মাঝে ভিড় বেড়ে যায়
  • এসি কোচের সংখ্যা কম

তবে সব মিলিয়ে এটি দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ট্রেন।


FAQs – কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

1. কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের অফ ডে কোন দিন?

ট্রেনটি শুক্রবার বন্ধ থাকে।

2. কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস কোন রুটে চলে?

এটি রাজশাহী–খুলনা রুটে চলাচল করে।

3. টিকিট মূল্য কত?

শোভন চেয়ার ৩৬০ টাকা এবং এসি সিট ৮২৮ টাকা।

4. কতগুলো স্টেশনে থামে?

এটি মোট ১৩+ স্টেশনে থামে।

5. অনলাইনে টিকিট পাওয়া যায় কি?

হ্যাঁ, eticket.railway.gov.bd থেকে পাওয়া যায়।

6. ট্রেনটি কি সময়মতো চলে?

সাধারণত হ্যাঁ। সময়নিষ্ঠতার জন্য ট্রেনটি জনপ্রিয়।

7. পরিবার নিয়ে ভ্রমণ নিরাপদ কি?

হ্যাঁ, এটি নিরাপদ এবং আরামদায়ক।

8. রুটটি কত দীর্ঘ?

সময় লাগে প্রায় ৫.৫–৬ ঘণ্টা।


শেষ কথা – কেন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস আপনার জন্য সেরা হতে পারে

পুরো আর্টিকেলজুড়ে আমরা দেখলাম কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী , ভাড়ার তালিকা, কোথায় থামে, রুট, অফ ডে সম্পর্কিত সব তথ্য।

এই ট্রেনটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ, সময়মতো চলা এবং শান্ত ভ্রমণের জন্য বরাবরই প্রশংসিত।

যদি রাজশাহী থেকে খুলনা বা খুলনা থেকে রাজশাহী আপনাকে ভ্রমণ করতে হয়, তাহলে এই ট্রেন একটি আদর্শ পছন্দ হতে পারে।

TrainGuideBD

At TrainGuideBD, our mission is simple: to make your train travel experience in Bangladesh easier, faster, and more convenient.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment