কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট প্রাইস, অফ ডে, স্টপেজ, রুট

By: TrainGuideBD

On: January 16, 2026

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাত্রা মানেই লম্বা পথ, ক্লান্তি আর একরাশ প্রত্যাশা। এই দীর্ঘ যাত্রাকে আরামদায়ক করে তোলার নামই কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই ট্রেনে চড়ে বাড়ির পথে কিংবা কাজের গন্তব্যে রওনা দেন। কেউ যাচ্ছেন পরিবারের কাছে, কেউ কর্মস্থলে, কেউবা স্বপ্নের টানে। এই লেখায় আমি আপনাকে বন্ধুর মতো করে বুঝিয়ে বলবো কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট প্রাইস, অফ ডে, স্টপেজ, রুট—সবকিছু এক জায়গায়। আপনি যদি প্রথমবার এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান, তাহলে এই গাইড আপনাকে পুরো পথ দেখাবে। আমি নিজেও বহুবার এই রুটে যাতায়াত করেছি। সেই অভিজ্ঞতা আর নির্ভরযোগ্য তথ্য মিলিয়েই এই লেখা।


Table of Contents

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস একটি আন্তঃনগর ট্রেন। এটি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এবং কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার মধ্যে নিয়মিত চলাচল করে। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নাইট ট্রেন। আপনি সন্ধ্যায় ঢাকা ছাড়বেন। ভোরে পৌঁছে যাবেন কুড়িগ্রামে। রাতের ঘুম আর যাত্রা একসঙ্গে সেরে ফেলার জন্য এটি অনেকের পছন্দ। এই ট্রেন মূলত রংপুর বিভাগের মানুষের জীবনরেখা। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী—সবাই এই ট্রেনের ওপর ভরসা রাখেন।

এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নির্ভরযোগ্য সময়সূচী। দেরি তুলনামূলক কম হয়। ভাড়া মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে। আসন ব্যবস্থাও যথেষ্ট আরামদায়ক। যারা দীর্ঘ রাস্তা বাসে যেতে চান না, তাদের জন্য এটি একদম আদর্শ।


কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট (Route)

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই রুটটিই উত্তরবঙ্গকে সরাসরি রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করে। ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে। এরপর ধাপে ধাপে এটি উত্তরবঙ্গের প্রধান প্রধান স্টেশন অতিক্রম করে কুড়িগ্রামে পৌঁছে।

এই রুট দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী চলাচল করেন। অনেকেই এই রুটে ব্যবসা করেন। কেউ আবার পড়াশোনা বা চাকরির কারণে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ঢাকা থেকে রংপুর বিভাগে যাওয়ার জন্য এটি একটি নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ মাধ্যম।

ঢাকা → বিমানবন্দর → নাটোর → সান্তাহার → জয়পুরহাট → পার্বতীপুর → রংপুর → কাউনিয়া → কুড়িগ্রাম
এই পথ ধরেই ছুটে চলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস। প্রতিটি স্টেশনই এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে আলাদা গুরুত্ব রাখে।


কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

এখন আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিকে—কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী। আপনি যদি সঠিক সময় না জানেন, তাহলে সুন্দর যাত্রার অর্ধেক আনন্দই নষ্ট হয়ে যায়। এই ট্রেনটি ঢাকা থেকে রাতে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে রাত কেটে যায়। ভোরে আপনি পৌঁছে যান কুড়িগ্রামে। এটি কর্মজীবীদের জন্য যেমন সুবিধাজনক, তেমনি পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও আরামদায়ক।

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম

  • ছাড়ে: রাত ২০:৪৫
  • পৌঁছায়: সকাল ০৬:১৫

কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা

  • ছাড়ে: সকাল ০৭:২০
  • পৌঁছায়: সন্ধ্যা ১৭:১৫

সমগ্র যাত্রায় আনুমানিক সময় লাগে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। এটি আবহাওয়া, লাইন ক্লিয়ারেন্স এবং অন্যান্য অপারেশনাল বিষয়ের ওপর সামান্য ওঠানামা করতে পারে। তবে সাধারণত এই সময়সূচীই মানা হয়।


কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের অফ ডে

প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের অফ ডে হলো বুধবার। এই দিনে ট্রেনটি চলাচল করে না। অনেক যাত্রী এই তথ্য না জেনে স্টেশনে এসে বিপদে পড়েন। তাই আগেই অফ ডে জেনে নেওয়া খুব জরুরি।

বুধবার ট্রেন বন্ধ থাকার পেছনে মূল কারণ হলো রক্ষণাবেক্ষণ। এই দিনে ইঞ্জিন, বগি ও লাইনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এতে যাত্রীরা বাকি ছয় দিন আরও নিরাপদ এবং আরামদায়ক সেবা পান।

আপনি যদি বুধবারের আশপাশে ভ্রমণ পরিকল্পনা করেন, তাহলে একদিন আগে বা পরে টিকিট কাটার চেষ্টা করুন। তাতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাঁচবে।


কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ ও বিরতিস্থান

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ বা বিরতিস্থানগুলো আপনার যাত্রার সময়কে আরও বাস্তব করে তোলে। কারণ যেসব স্টেশনে ট্রেন থামে, সেখান থেকেই যাত্রীরা ওঠানামা করেন। এই ট্রেন প্রতিটি বড় স্টেশনে ৫ থেকে ১০ মিনিট যাত্রা বিরতি দেয়। এতে যাত্রীদের জন্য পানীয়, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো সহজ হয়।

নিচের টেবিলে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এবং কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার পথে প্রধান প্রধান স্টপেজ ও সময় দেওয়া হলো:

বিরতি স্টেশনঢাকা থেকে (৭৯৭)কুড়িগ্রাম থেকে (৭৯৮)
বিমানবন্দর২১:০৮
নাটোর০১:১৩১২:১৭
মাধনগর০১:৩১১২:০১
সান্তাহার০২:১৫১১:২০
জয়পুরহাট০২:৫২১০:৪৩
পার্বতীপুর০৪:০৫০৯:২৫
বদরগঞ্জ০৪:৩২০৮:৫৭
রংপুর০৫:০১০৮:২৩
কাউনিয়া০৫:২৭০৮:০০

এই স্টপেজগুলো উত্তরবঙ্গের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও জেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে।


কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট প্রাইস (ভাড়ার তালিকা)

এখন আসা যাক আপনার পকেটের হিসাবের কথায়—কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট প্রাইস। এই ট্রেনে বিভিন্ন শ্রেণির আসন রয়েছে। আপনি আপনার বাজেট ও আরামের চাহিদা অনুযায়ী আসন বেছে নিতে পারেন। এখানে উল্লেখিত ভাড়ার সঙ্গে ১৫% ভ্যাট যুক্ত থাকে।

আসন শ্রেণিটিকেট মূল্য
শোভন চেয়ার৬৪০ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি)১২২৫ টাকা
প্রথম বার্থ২১৯৭ টাকা

শোভন চেয়ার সাধারণ যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। এটি তুলনামূলক কম খরচে ভালো সেবা দেয়। স্নিগ্ধা এসি আসনে আপনি পাবেন আরামদায়ক পরিবেশ। আর প্রথম বার্থ যাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ কমফোর্ট নিশ্চিত করে।


টিকিট কোথায় ও কীভাবে কিনবেন

আপনি চাইলে স্টেশন কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট কিনতে পারেন। আবার অনলাইনেও সহজে টিকিট পাওয়া যায়। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম অনেকটাই উন্নত। মোবাইল বা কম্পিউটার থেকেই টিকিট কাটতে পারেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে অনলাইন টিকিটই বেশি ব্যবহার করি। এতে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় না। ঈদ বা ছুটির সময়ে এটি অনেক বড় সুবিধা দেয়। তবে অনলাইনে টিকিট কাটলেও যাত্রার আগে প্রিন্ট বা ডিজিটাল কপি সঙ্গে রাখা ভালো।কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ভ্রমণের বাস্তব অভিজ্ঞতা

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস শুধু একটি ট্রেন নয়, এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের আবেগ। আমি যখনই এই ট্রেনে উঠি, একটা অদ্ভুত শান্তি পাই। রাতে কমলাপুর থেকে ছাড়ার সময় প্ল্যাটফর্মে কোলাহল থাকে। ব্যস্ত মানুষের ভিড়। কেউ বাড়ি ফিরছে, কেউ কাজে যাচ্ছে। ট্রেন ছাড়ার পর শহরের আলো ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যায়। জানালার বাইরে অন্ধকার মাঠ, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, মাঝে মাঝে ছোট স্টেশনের হলুদ আলো—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি।

এই ট্রেনে রাতটা বেশ আরামে কাটে। শোভন চেয়ার হলেও খুব কষ্ট হয় না। স্নিগ্ধা বা প্রথম বার্থে গেলে তো কথাই নেই। ভোরের দিকে যখন রংপুর পার হয়, তখন জানালার পাশে বসে সূর্য ওঠা দেখা সত্যিই শান্তির। এমন অভিজ্ঞতা বাসে করে পাওয়া যায় না।


কোন আসন আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট প্রাইস আলাদা হওয়ার কারণ হলো আসনের শ্রেণি ভেদে সুবিধার পার্থক্য। আপনি যদি ছাত্র বা স্বল্প বাজেটের যাত্রী হন, তাহলে শোভন চেয়ার আপনার জন্য যথেষ্ট। এটি পরিষ্কার, বসার জায়গা ঠিকঠাক এবং দীর্ঘ যাত্রার জন্য মোটামুটি আরামদায়ক।

আপনি যদি পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করেন বা রাতে ঘুমাতে চান, তাহলে স্নিগ্ধা (এসি) আসন ভালো পছন্দ। এতে ঠান্ডা পরিবেশ, নরম আসন এবং নিরিবিলি পরিবেশ পাওয়া যায়। আর যদি আপনি পুরোপুরি আরাম চান, বিশেষ করে বৃদ্ধ বা অসুস্থ কেউ থাকলে, তাহলে প্রথম বার্থ আদর্শ। এখানে আপনি শুয়ে বিশ্রাম নিতে পারবেন।

আমার অভিজ্ঞতায়, এক রাতের যাত্রায় ঘুম খুব দরকার হয়। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে স্নিগ্ধা বা প্রথম বার্থই বেশি পছন্দ করি।


ট্রেনের ভেতরে খাবার ও পানীয় সুবিধা

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্যাটারিং সার্ভিস থাকে। যাত্রাপথে হকাররা হেঁটে হেঁটে চা, বিস্কুট, পানি, স্ন্যাকস বিক্রি করেন। কিছু বড় স্টেশনে ট্রেন থামার সময় বাইরের বিক্রেতারাও আসে। আপনি তখন ইচ্ছা করলে হালকা খাবার কিনতে পারেন।

তবে আমি সবসময় বলি, রাতের যাত্রার জন্য নিজে থেকে কিছু খাবার সঙ্গে রাখা ভালো। যেমন বিস্কুট, শুকনো খাবার এবং পানির বোতল। এতে মাঝরাতে ক্ষুধা লাগলেও ঝামেলা হয় না। বিশেষ করে শিশু বা বৃদ্ধ যাত্রী থাকলে এটা খুব দরকারি।


নিরাপত্তা ও সতর্কতা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সাধারণত নিরাপদ ট্রেন। তবুও কিছু সতর্কতা মানলে যাত্রা আরও নিশ্চিন্ত হয়।

  • ব্যাগ সবসময় চোখের কাছে রাখুন
  • গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ও টাকা আলাদা পকেটে রাখুন
  • ঘুমানোর সময় মোবাইল ও মানিব্যাগ বালিশের নিচে রাখুন
  • ভিড়ের মধ্যে অপরিচিত কারো সঙ্গে অতিরিক্ত তথ্য শেয়ার করবেন না
  • রাতে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন

আমি বহুবার এই ট্রেনে ভ্রমণ করেছি। বড় কোনো সমস্যা কখনো হয়নি। তবে সাবধান থাকা সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ।


ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ গাইড

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম ট্রেনে গেলে আপনি দেশের অর্ধেকের বেশি অংশ অতিক্রম করেন। এই পথে বড় বড় শহর, নদী, মাঠ, ধানক্ষেত—সবকিছু দেখার সুযোগ হয়। যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই যাত্রা একধরনের থেরাপির মতো।

আপনি যদি রাতে ঢাকা ছাড়েন, তাহলে চেষ্টা করুন সন্ধ্যার আগেই কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছাতে। কারণ রাতের ট্রেনগুলোতে যাত্রী চাপ বেশি থাকে। সময় হাতে থাকলে আপনি নিশ্চিন্তে আসন খুঁজে নিতে পারবেন। ভোরে কুড়িগ্রাম পৌঁছে স্থানীয় পরিবহন পেতে তেমন সমস্যা হয় না। অটো, রিকশা, সিএনজি সহজেই পাওয়া যায়।


কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা ফেরা: কী মনে রাখবেন

ফেরার সময়ও একইভাবে আগেভাগে স্টেশনে যাওয়া ভালো। সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ে। তাই ৬টার মধ্যে স্টেশনে থাকলে ভালো হয়। সকালের ট্রেন হওয়ায় কখনো কখনো দেরি হতে পারে। তবে খুব বেশি দেরি সাধারণত হয় না।

ঢাকার দিকে আসার সময় বিকেলের দিকে ট্রেন ঢোকে। তখন কমলাপুরে যাত্রীর ভিড় থাকে। তাই নামার সময় ব্যাগ সামলে নামা জরুরি।


ঈদ ও ছুটির সময় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের অবস্থা

ঈদ আর বড় ছুটির সময়ে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট প্রাইস ও সময়সূচী একই থাকে, কিন্তু টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। অগ্রিম টিকিট ছাড়া সেই সময়ে যাত্রা করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

অনেক যাত্রী দেখে আমি অবাক হয়েছি, রাত ৩টায় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছেন। তাই ঈদের আগে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন আগেই টিকিট বুকিং করা উচিত। অনলাইনে পাওয়া গেলে সেটাই সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পথ।


কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নিয়ে যাত্রীদের সাধারণ ভুল

অনেক যাত্রী কিছু সাধারণ ভুল করেন, যা পরে ভোগান্তির কারণ হয়।

  • অফ ডে না জেনে স্টেশনে চলে আসা
  • শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটতে যাওয়া
  • বেশি লাগেজ নিয়ে আসা
  • যাত্রার আগে সময়সূচী যাচাই না করা
  • স্টপেজ সম্পর্কে ধারণা না রাখা

আপনি যদি আগেই কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট প্রাইস, অফ ডে, স্টপেজ, রুট ভালোভাবে জেনে নেন, তাহলে এই ভুলগুলো এড়ানো সম্ভব।


কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বনাম বাস যাত্রা

অনেকেই ভাবেন, ট্রেন না বাস—কোনটি ভালো। আমার অভিজ্ঞতায় ট্রেন অনেক বেশি নিরাপদ ও আরামদায়ক। বাসে রাতের রাস্তার ঝুঁকি থাকে। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেশি। ট্রেনে আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন। বাচ্চা নিয়ে গেলে ট্রেন অনেক নিরাপদ।

খরচের দিক থেকেও ট্রেন তুলনামূলক সাশ্রয়ী। বাসে এসি হলে খরচ অনেক সময় ট্রেনের চাইতেও বেশি পড়ে।


কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বুলেট পয়েন্ট তথ্য

  • এটি একটি আন্তঃনগর নাইট ট্রেন
  • ঢাকা ও কুড়িগ্রামের মধ্যে সরাসরি চলাচল করে
  • সাপ্তাহিক ছুটির দিন: বুধবার
  • আসন শ্রেণি: শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, প্রথম বার্থ
  • রুটটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত রেলপথ
  • দৈনিক হাজার হাজার যাত্রীর যাতায়াত

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)

প্রশ্ন ১: কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সপ্তাহে কয়দিন চলে?
উত্তর: এটি সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। বুধবার অফ ডে।

প্রশ্ন ২: ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যেতে কত সময় লাগে?
উত্তর: গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে।

প্রশ্ন ৩: কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে কি এসি কোচ আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, এখানে স্নিগ্ধা ও প্রথম বার্থ এসি কোচ রয়েছে।

প্রশ্ন ৪: অনলাইনে টিকিট কাটা কি নিরাপদ?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা নিরাপদ।

প্রশ্ন ৫: ট্রেনে খাবার পাওয়া যায় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনের ভেতরে ও কিছু স্টেশনে খাবার পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৬: কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস কি ঈদের সময় অতিরিক্ত চলে?
উত্তর: ঈদের সময় sometimes বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়, তবে নিয়মিত সময়সূচী অপরিবর্তিত থাকে।

প্রশ্ন ৭: ট্রেনে লাগেজ নেওয়ার কোনো সীমা আছে কি?
উত্তর: সাধারণ লাগেজ নেওয়া যায়। অতিরিক্ত হলে আলাদা চার্জ প্রযোজ্য।


কেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এত জনপ্রিয়

এই ট্রেন উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। শিক্ষার্থী ঢাকা আসে পড়াশোনার জন্য। চাকরির মানুষ আসে কর্মস্থলে। ব্যবসায়ীরা রাজধানীর বাজারে পণ্য নিয়ে যায়। এই সব যাত্রার ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস হয়ে উঠেছে এক বিশ্বস্ত বন্ধু।

প্রতি রাতে যখন এই ট্রেন ছাড়ে, তখন মনে হয় অনেক স্বপ্ন আর দুশ্চিন্তা একসঙ্গে ছুটে চলছে রেলের লাইনের ওপর দিয়ে। কারো চোখে আনন্দ, কারো চোখে ক্লান্তি, আবার কারো চোখে নতুন জীবনের আশা।


উপসংহার: নিশ্চিন্ত যাত্রার সেরা সঙ্গী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস

এই পুরো আর্টিকেলে আমি চেষ্টা করেছি আপনাকে সহজ ভাষায়, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের আলোকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট প্রাইস, অফ ডে, স্টপেজ, রুট সম্পর্কে সম্পূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে। আপনি যদি সঠিক সময়ে সঠিক টিকিট নিয়ে এই ট্রেনে উঠেন, তাহলে আপনার যাত্রা হবে নিরাপদ, আরামদায়ক ও স্মরণীয়।

এই ট্রেন শুধু একটি যানবাহন নয়। এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন, যাতায়াতের ভরসা আর জীবনের ধারাবাহিকতার অংশ। আপনি যদি এই রুটে যাত্রা করতে চান, তাহলে নিঃসন্দেহে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আপনার জন্য একটি চমৎকার পছন্দ।

TrainGuideBD

At TrainGuideBD, our mission is simple: to make your train travel experience in Bangladesh easier, faster, and more convenient.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment