তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, কোথায় থামে, রুট, টিকেট প্রাইস, অফ ডে

By: trainguidebd

On: July 8, 2026

তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

তিস্তা এক্সপ্রেসের সবচেয়ে ব্যস্ত রুট হলো ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ। যাত্রীরা সাধারণত সকালে ট্রেন ধরেন, যাতে দুপুরের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। অফিসের কাজ বা বাজারের কাজের জন্য এই সময়টি খুবই উপযুক্ত।

নীচে ২০২৬ সালের সর্বশেষ সময়সূচী দেওয়া হলো:

তথ্য সময়
ট্রেন নম্বর ৭০৭
ঢাকা থেকে প্রস্থান সকাল ০৭:৩০
দেওয়ানগঞ্জে আগমন দুপুর ১২:৩০
মোট ভ্রমণ সময় ৫ ঘন্টা ২০ মিনিট
সাপ্তাহিক ছুটি সোমবার

যারা সকালে দ্রুত যাত্রা শুরু করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই সময় খুবই ভালো। ট্রেনটি সকালবেলার সুন্দর আলো আর শান্ত পরিবেশে রুট অতিক্রম করে।

এই রুটের যাত্রীদের জন্য কিছু পরামর্শ:

  • স্টেশনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট আগে পৌঁছান
  • স্টেশনের দীর্ঘ লাইনের কথা মাথায় রেখে টিকেট আগে কেটে রাখুন
  • ব্যাগ বা লাগেজের ওপর নজর রাখুন

ট্রেনটি সবসময় নির্দিষ্ট সময়েই ছাড়ে, তাই বিলম্ব হলে ট্রেন ধরতে সমস্যা হতে পারে।


Table of Contents

দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকা তিস্তা এক্সপ্রেসের সময়সূচী

অনেকে দুপুরের পর ঢাকামুখী যাত্রা করেন। চাকরি, পড়াশোনা বা ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় ফেরা মানুষদের জন্য এই সময়টি বেশ সুবিধাজনক।

২০২৬ সালের সময় অনুযায়ী:

তথ্য সময়
ট্রেন নম্বর ৭০৮
দেওয়ানগঞ্জ থেকে প্রস্থান বিকাল ০৩:০০
ঢাকা পৌঁছানোর সময় রাত ০৮:৩০
মোট যাত্রা সময় ৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট
সাপ্তাহিক ছুটি সোমবার

দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ট্রেনটি সাধারণত সময়মতো ছাড়ে। সন্ধ্যার বাতাস আর ট্রেনের চলার শব্দ শান্তির অনুভূতি দেয়। তবে সন্ধ্যার পর গন্তব্যে পৌঁছানোর কারণে যাত্রীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।


তিস্তা এক্সপ্রেসের অফ ডে – কোন দিনে ট্রেনটি চলাচল করে না

অনেকেই ভাবেন প্রতিদিন ট্রেন চলার মানে যেকোনো দিনে ইচ্ছামতো ভ্রমণ করা যায়। কিন্তু এই ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট অফ ডে আছে।

তথ্য অনুযায়ী:

  • তিস্তা এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে

এই দিনটিতে ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত বা অন্যান্য কারিগরি কাজ করা হয়, যাতে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে যাত্রীরা নিরাপদে এবং ঝামেলামুক্ত ভ্রমণ করতে পারেন।

তাই:

  • যদি আপনি সপ্তাহের শুরুতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তা অবশ্যই মঙ্গলবার থেকে শুরু করা উচিত।
  • অনলাইন টিকেট বুকিং করার সময় তারিখ ভালোভাবে দেখে নিন।

তিস্তা এক্সপ্রেস কোথায় কোথায় থামে – সব স্টপেজ তালিকা ২০২৬

একটি ট্রেনের সঠিক স্টপেজ জানা খুব জরুরি। বিশেষ করে যারা মাঝপথের কোনও স্টেশনে উঠতে বা নামতে চান, তাদের জন্য এই তথ্য দরকারি।

২০২৬ সালের হালনাগাদ স্টেশন তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ স্টপেজ তালিকা

স্টেশন আগমন প্রস্থান
ঢাকা ৭:৩০ AM
বিমানবন্দর ৭:৫৩ AM ৭:৫৮ AM
জয়দেবপুর ৮:২৩ AM ৮:২৬ AM
গফরগাঁও ৯:৪৪ AM ৯:৪৭ AM
ময়মনসিংহ ১০:৩২ AM ১০:৩৫ AM
পিয়ারপুর ১১:০৩ AM ১১:০৫ AM
জামালপুর টাউন ১১:৩৬ AM ১১:৪০ AM
মেলান্দহ বাজার ১১:৫৬ AM ১১:৫৮ AM
ইসলামপুর বাজার ১২:১৬ PM ১২:১৮ PM
দেওয়ানগঞ্জ বাজার ১২:৫০ PM

এই রুটের প্রতিটি স্টেশন স্থানীয় যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, জামালপুর, গফরগাঁও অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য এটি ব্যস্ততম ট্রেন।তিস্তা এক্সপ্রেসের উল্টো রুটের স্টেশন তালিকা – দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকা

স্টেশন আগমন প্রস্থান
দেওয়ানগঞ্জ বাজার ৩:০০ PM
ইসলামপুর বাজার ৩:১৪ PM ৩:১৬ PM
মেলান্দহ বাজার ৩:৩১ PM ৩:৩৩ PM
জামালপুর টাউন ৩:৫১ PM ৩:৫৬ PM
পিয়ারপুর ৪:২৬ PM ৪:২৮ PM
ময়মনসিংহ ৫:০৩ PM ৫:০৬ PM
গফরগাঁও ৫:৫২ PM ৫:৫৪ PM
বিমানবন্দর ৭:৪৭ PM
ঢাকা ৮:৩০ PM

এই রুটের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হলো জামালপুর—ময়মনসিংহ অংশ। সন্ধ্যার ট্রাফিক আর রেললাইন ব্যস্ততার কারণে এখানে যাত্রীরা কিছুটা ভিড় অনুভব করেন। তাই যারা এই স্টেশনগুলো থেকে উঠবেন, তাদের সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো জরুরি। অনেক সময় ২-৩ মিনিট দেরি করলে ট্রেন চোখের সামনে দিয়েই চলে যায়।


তিস্তা এক্সপ্রেসের টিকেট প্রাইস – ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ ভাড়ার তালিকা

ট্রেনে ভ্রমণের অন্যতম সুবিধা হলো কম খরচে দীর্ঘ পথ যাওয়া যায়। তিস্তা এক্সপ্রেসও এই ক্ষেত্রে খুবই জনপ্রিয়। বিভিন্ন শ্রেণির আসন থাকায় যাত্রীরা নিজেদের বাজেট অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে পারেন।

২০২৬ সালের সর্বশেষ টিকেট প্রাইস:

শ্রেণি ভাড়া (টাকা)
SNIGDHA ৪৭৮
S_CHAIR ২৫০
F_SEAT ৩৮৬
AC_S ৫৭৫

টিকেট প্রাইস দেখে বুঝা যায়—এটি অনেক সাশ্রয়ী। বিশেষ করে S_CHAIR টিকিটটি সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। আর যারা একটু আরাম চান, তারা AC বা SNIGDHA বেছে নিতে পারেন।

টিকিট কেনার সময় কিছু বিষয় মনে রাখা ভালো:

  • অনলাইন টিকিট Esheba বা রেল ওয়েবসাইট থেকে আগে কেটে রাখুন
  • টিকিটের তথ্য যাচাই করে নিন
  • ট্রেনের সময়সূচীর সঙ্গে টিকেট তারিখ মিলিয়ে দেখুন
  • অফ ডে সঠিকভাবে নিশ্চিত করুন

তিস্তা এক্সপ্রেসের রুট – পুরো ভ্রমণ পথের বিশ্লেষণ

যারা প্রথমবার তিস্তা এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করবেন, তারা রুটটি ভালোভাবে জেনে নিলে আরাম পাবেন। কারণ কোন স্টেশনের পর কোন এলাকা আসে, কী ধরনের পরিবেশ বা ভিড় থাকতে পারে, এসব জানা থাকলে যাত্রা নির্বিঘ্ন হয়।

তিস্তা এক্সপ্রেস রুট (ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ বাজার):

ঢাকা → বিমানবন্দর → জয়দেবপুর → গফরগাঁও → ময়মনসিংহ → পিয়ারপুর → জামালপুর টাউন → মেলান্দহ বাজার → ইসলামপুর বাজার → দেওয়ানগঞ্জ বাজার

এই রুটটি বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত লাইন। ঢাকার শহুরে ভিড় থেকে বের হয়ে গফরগাঁও—ময়মনসিংহ অংশে ঢুকলেই প্রকৃতির সবুজ আপনাকে স্বাগত জানায়। ধানক্ষেত, চরাঞ্চলের দৃশ্য, নদীর তীর—সব মিলিয়ে এই রুটকে একধরনের শান্তির পথ বলা যায়।

তবে প্রতিটি স্টেশন অনুযায়ী ট্রেনের ভিড় ভিন্ন:

  • ঢাকার কাছে ভিড় বেশি
  • ময়মনসিংহে যাত্রী ওঠা-নামা বেশি
  • জামালপুর অঞ্চলে হালকা ভিড়
  • দেওয়ানগঞ্জের দিকে যাত্রী সংখ্যা কমে যায়

এই কারণেই অনেক পুরনো যাত্রী বলতেই ভালোবাসেন—তিস্তা এক্সপ্রেস যেন ঢাকার ব্যস্ততা থেকে গ্রামীণ শান্তির দিকে একটি আস্তে চলা সেতু।


তিস্তা এক্সপ্রেসে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা – যেন আপনজনের সাথে পথচলা

যখন নতুন কোনো স্থান বা ট্রেনে প্রথমবার যাই, আমরা কিছুটা অস্থিরতা অনুভব করি। কোথায় থামবে, সময় কি ঠিক থাকবে, ভিড় কত বেশি—এ সব চিন্তা মাথায় আসে। কিন্তু তিস্তা এক্সপ্রেসের অভিজ্ঞতা এসব ভাবনা বদলে দেয়।

এই ট্রেনে ভ্রমণ একধরনের স্মৃতি:

  • জানালার পাশের আসনে বসলে মনে হয় পথ যেন গল্প বলে
  • ময়মনসিংহ অংশে নদী আর সবুজ দেখা যায়
  • চরাঞ্চলের দৃশ্য মানসিক শান্তি দেয়
  • প্রতিটি স্টেশনে মানুষের কোলাহল এক নতুন অনুভূতি সৃষ্টি করে

দীর্ঘ রুট হলেও ক্লান্তিকর মনে হয় না। বরং ট্রেনের বাতাস আর শব্দ একটা আলাদা প্রশান্তি দেয়।


তিস্তা এক্সপ্রেসে ভ্রমণের আগে যা জানা জরুরি

বেশি মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করেন কিন্তু প্রস্তুতি ঠিকভাবে নেন না। ফলে ভ্রমণ আরামদায়ক হলেও ছোট–খাটো সমস্যা দেখা দেয়। এখানে কিছু পরামর্শ দেওয়া হলো যা আপনার যাত্রা সহজ করবে।

প্রস্তুতির টিপস

  • টিকিট অবশ্যই আগেই কেটে রাখুন
  • ভিড়ের দিনগুলোতে সময় নিয়ে স্টেশনে আসুন
  • গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মূল্যবান জিনিসপত্র আলাদা ব্যাগে রাখুন
  • পানি ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখুন
  • রাতে ভ্রমণে হলে সিট পজিশন দেখে নিন

ভ্রমণে করণীয়

  • জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বাইরে দেবেন না
  • ভিড় বেশি হলে ধৈর্য ধরুন
  • স্টেশন পরিবর্তনের সময় সতর্ক থাকুন

এই ছোট পরামর্শগুলো আপনার পুরো যাত্রাকে আরও আরামদায়ক করবে।


কেন তিস্তা এক্সপ্রেস বেছে নেবেন – কিছু অতিরিক্ত সুবিধা

যদিও বাংলাদেশে অনেক আন্তঃনগর ট্রেন আছে, তিস্তা এক্সপ্রেসের কিছু আলাদা সুবিধা রয়েছে। যারা বারবার এ ট্রেনে ভ্রমণ করেন, তারা জানেন—এই ট্রেনটি নির্ভরযোগ্য।

ট্রেনের কিছু উল্লেখযোগ্য সুবিধা

  • সময়মতো পৌঁছানো
  • ট্রেনের ভিড় তুলনামূলক কম
  • আরামদায়ক সিট
  • পরিষ্কার কোচ
  • দীর্ঘ রুটে পর্যাপ্ত স্টেশন
  • বাজেট–ফ্রেন্ডলি ভাড়া

তাই যারা প্রতিদিন বা সপ্তাহে কয়েকবার ভ্রমণ করেন, তারা এ ট্রেনটিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখেন।


তিস্তা এক্সপ্রেস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (বুলেট পয়েন্ট)

  • তিস্তা এক্সপ্রেস চালু হয়েছে ১৬ মার্চ ১৯৮৬ সালে
  • এটি আন্তঃনগর ট্রেন
  • ট্রেন কোড ৭০৭/৭০৮
  • রুট: ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ বাজার
  • অফ ডে: সোমবার
  • ভ্রমণ সময়: ৫ ঘন্টা ২০–৩০ মিনিট
  • থামে ১০টির বেশি স্টেশনে

FAQs: তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. তিস্তা এক্সপ্রেস সপ্তাহে কয় দিন চলে?

সপ্তাহে ৬ দিন চলে। সোমবার অফ ডে।

২. ট্রেনটি কোন রুটে চলে?

ঢাকা → দেওয়ানগঞ্জ বাজার।

৩. তিস্তা এক্সপ্রেসে স্নিগ্ধা ক্লাস আছে কি?

হ্যাঁ, SNIGDHA ক্লাস আছে।

৪. সবচেয়ে কম ভাড়ার টিকেট কোনটি?

S_CHAIR ক্লাস, ভাড়া ২৫০ টাকা।

৫. টিকেট কি অনলাইনে পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, Esheba এবং রেলওয়ে ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।

৬. তিস্তা এক্সপ্রেস কি সময় ধরে চলে?

সাধারণত সময় মেনে চলে, তবে ভিড় বা আবহাওয়া অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন হতে পারে।

৭. কোন স্টেশন থেকে যাত্রী বেশি ওঠানামা করে?

ময়মনসিংহ, গফরগাঁও এবং জামালপুর।

৮. ট্রেনটি কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, এটি খুবই নিরাপদ এবং বিশ্বস্ত ট্রেন সেবা।


উপসংহার – আপনার ভ্রমণের যাত্রা হোক সুখকর

পুরো আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় জানলাম তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, কোথায় থামে, রুট, টিকেট প্রাইস, অফ ডে– সব তথ্য। যারা এই রুটে নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এটি এক নির্ভরযোগ্য উপায়। সময়মতো পৌঁছানো, আরামদায়ক আসন, সাশ্রয়ী ভাড়া—সব মিলিয়ে তিস্তা এক্সপ্রেস যাত্রীদের এক অন্যরকম ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেয়।

যদি আপনি শিগগিরই ঢাকা বা দেওয়ানগঞ্জের পথে যান, তবে তিস্তা এক্সপ্রেস হতে পারে আপনার ভরসা। নিরাপদ ভ্রমণ করুন এবং যাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করুন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment