ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের সময়সূচী: ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ গাইড

By: TrainGuideBD

On: January 18, 2026

ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের সময়সূচী

বাংলাদেশে ট্রেনে ভ্রমণ সবসময়ই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে দীর্ঘ রুটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রেন মানুষের সবচেয়ে স্বস্তির মাধ্যম। আর রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী যেতে হলে অনেক যাত্রীই ট্রেন বেছে নেন। কারণ ট্রেনে ভ্রমণ আরামদায়ক, নিরাপদ এবং একই সঙ্গে সাশ্রয়ী। এই কারণে অনেকে প্রতিদিন গুগলে সার্চ করেন – ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম, স্টপেজ বা ভ্রমণের সঠিক তথ্য।
আজকের এই দীর্ঘ নিবন্ধে আমরা সহজ ভাষায়, বন্ধুর মতো গল্প করতে করতে সব তথ্য তুলে ধরব।

এই লেখাটি ২০২৬ সালের তথ্যকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, এবং পাঠকের সুবিধার জন্য তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে সাজানো হয়েছে যাতে আপনি যেদিন যাত্রা করবেন তার আগেই সব কিছু পরিষ্কারভাবে বুঝে নিতে পারেন। যারা প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে রাজশাহী–ঢাকা রুটে ঘোরাঘুরি করেন, তাদের জন্যও এই গাইডটি অনেক উপকারে আসবে। আর যাদের দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা ছিল ট্রেনে রাজশাহী যাওয়ার, এই নিবন্ধটি সেই পরিকল্পনাকে আরও সহজ করে দেবে।


Table of Contents

ট্রেনে ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়া কেন ভালো?

ঢাকা–রাজশাহী রুটে ট্রেনের জনপ্রিয়তার পেছনে কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। অনেকেই গাড়িতে যেতে ভয় পান, কারণ রাস্তার জ্যাম, ক্লান্তি আর ঝুঁকি সব মিলিয়ে যাত্রা সবার জন্য আরামদায়ক হয় না। ট্রেনে সেই চাপ নেই। মন খুলে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে তাকাতে পথের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলা যায়—রাজশাহী অভিমুখী ট্রেনগুলো তুলনামূলক আরামদায়ক, পরিষ্কার এবং সময়ও সাধারণত ঠিক রাখে। বিশেষ করে রাতের পদ্মা এক্সপ্রেস বা সকালের ধুমকেতু এক্সপ্রেস যাত্রীদের কাছে খুব জনপ্রিয়।

সাথে আরেকটি বড় কারণ হলো ভাড়া। একই দূরত্ব বাসে যাতায়াত করলে যেখানে ভাড়া বেশি লাগে, ট্রেনে সেখানে তুলনামূলক অনেক কম খরচ হয়। আর অনলাইনে সহজেই টিকিট কাটা যায়, তাই স্টেশনের ভিড়ও এখন আর জরুরি নয়।


ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর পরিচয়

ঢাকা–রাজশাহী রুটে বর্তমানে পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এগুলো নিয়মিত সময় অনুযায়ী যাত্রা করে, আর প্রতিটি ট্রেনের সুনির্দিষ্ট সুবিধা আলাদা।

নিচে ট্রেনগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

  • সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩)
  • মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫)
  • পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯)
  • ধুমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯)
  • বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১)

প্রতিটি ট্রেনেই আলাদা আলাদা সময়সূচী, স্টপেজ, আসন বিভাগ এবং ভাড়ার নিয়ম রয়েছে। তাই আপনি নিজের সুবিধামতো ট্রেন নির্বাচন করতে পারবেন।


ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের সময়সূচী: ২০২৬ সালের আপডেট তালিকা

এই অংশটি পুরো আর্টিকেলের মূল বিষয়—ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের সময়সূচী। যারা শুধু সময় জানতে চান তাদের জন্য এই টেবিল খুবই কাজে লাগবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সময়সূচী নিম্নরূপ:

ট্রেনের নামছাড়ার সময়পৌঁছানোর সময়সাপ্তাহিক ছুটির দিন
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩)দুপুর ২:৩০রাত ৮:২০রবিবার
মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫)দুপুর ৩:০০রাত ১০:৩০শনিবার
পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯)রাত ১০:৪৫ভোর ৪:০০মঙ্গলবার
ধুমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯)সকাল ৬:০০সকাল ১১:৪০বৃহস্পতিবার
বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১)দুপুর ১:৩০বিকাল ৫:৪৫শুক্রবার

ঢাকা থেকে রাজশাহী যাত্রার জন্য উপরের সময়সূচী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেদিন যাত্রা করবেন তার আগেই সময়টি খেয়াল করে নিলে ঝামেলা কম হবে। অনেক সময় যাত্রীরা শুধু আনুমানিক সময়ে স্টেশনে হাজির হন এবং দেখেন ট্রেন চলে গেছে। তাই সর্বদা নির্ভুল সময় জেনে নেওয়া জরুরি।


ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা

অনেক যাত্রী মনে করেন, সময়সূচী জেনে নিলেই কাজ শেষ। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সময় জানার পাশাপাশি ট্রেনের ধরন, সাপ্তাহিক ছুটি এবং সম্ভাব্য বিলম্ব জেনে নেয়াও জরুরি। উদাহরণ হিসেবে পদ্মা এক্সপ্রেসকে ধরা যায়। যেহেতু এটি রাতের ট্রেন, অনেক সময় দেরিতে ছাড়লেও ভোরের মধ্যে রাজশাহী পৌঁছে যায়। আবার ধুমকেতু এক্সপ্রেস সকালের ট্রেন হওয়ায় সময়ের খুব বেশি হেরফের সাধারণত হয় না।

আমি নিজেও একবার সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ধরতে গিয়ে মাত্র দুই মিনিটের বিলম্বে ট্রেন মিস করেছি। তখন উপলব্ধি করেছি—টিকিট কাটা, ব্যাগ গুছানো সব একপাশে রাখা উচিত, কিন্তু সময় মেনে স্টেশনে পৌঁছানোই আসল বিষয়।


ঢাকা–রাজশাহী ট্রেনের ভাড়া: কোন আসনে কত টাকা?

ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটে বিভিন্ন ট্রেনে বিভিন্ন ধরনের আসন সুবিধা রয়েছে। একেক কম্পার্টমেন্টে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া। যাত্রীরা তাদের বাজেট অনুযায়ী সিট নির্বাচন করতে পারেন। নিচে ট্রেনভেদে ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো।

সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩) ভাড়া

  • S-Chair: 450 টাকা
  • Snigdha: 863 টাকা
  • AC Seat: 1035 টাকা

মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫) ভাড়া

  • S-Chair: 585 টাকা
  • AC Seat: 1340 টাকা

পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯) ভাড়া

  • S-Chair: 450 টাকা
  • Snigdha: 863 টাকা
  • AC Berth: 1597 টাকা

ধুমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯) ভাড়া

  • S-Chair: 450 টাকা
  • Snigdha: 863 টাকা
  • AC Seat: 1035 টাকা

বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১) ভাড়া

  • S-Chair: 495 টাকা
  • Snigdha: 949 টাকা
  • AC Seat: 1139 টাকা

ভাড়াগুলো তুলনা করলে দেখা যায়—মধুমতি ও বনলতা এক্সপ্রেসে অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় আসন ভাড়া কিছুটা বেশি। কারণ এসব ট্রেনে সেবার মান এবং কম্পার্টমেন্টের মান কিছুটা উন্নত।


ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেন স্টেশন লিস্ট বিস্তারিত

ট্রেনের স্টপেজ জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক যাত্রী পুরো পথ না গিয়ে মাঝপথের কোনো স্টেশনে নেমে যান। কেউ আবার মাঝপথ থেকে ট্রেনে ওঠেন। তাই ট্রেনভেদে স্টপেজ সবসময় মাথায় রাখা ভালো। এখানে প্রতিটি ট্রেনের স্টেশন লিস্ট উল্লেখ করা হলো।

সিল্কসিটি এক্সপ্রেস স্টেশন লিস্ট

  • কমলাপুর
  • বিমানবন্দর
  • জয়দেবপুর
  • মির্জাপুর
  • টাঙ্গাইল
  • ইব্রাহিমাবাদ
  • মনসুর আলী
  • জামতৈল
  • উল্লাপাড়া
  • বড়াল ব্রিজ
  • চাটমোহর
  • ঈশ্বরদী বাইপাস
  • আব্দুলপুর
  • রাজশাহী

মধুমতি এক্সপ্রেস স্টেশন লিস্ট

(নতুন রুট হওয়ায় স্টেশনের সংখ্যা বেশি)

  • কমলাপুর
  • মাওয়া
  • পদ্মা স্টেশন
  • শিবচর
  • ভাঙ্গা
  • পুকুরিয়া
  • তালমা
  • ফরিদপুর
  • আমিরাবাদ
  • পাচুরিয়া
  • রাজবাড়ী
  • কালুখালি
  • পাংশা
  • খোকসা
  • কুমারখালী
  • কুষ্টিয়া কোর্ট
  • পোড়াদহ
  • মিরপুর
  • ভেড়ামারা
  • পাকশী
  • ঈশ্বরদী
  • রাজশাহী

এই ট্রেনের বিশেষত্ব হলো—রুটটি তুলনামূলক নতুন হওয়ায় যাত্রীরা নতুন অভিজ্ঞতা পান।


অনলাইনে ঢাকা থেকে রাজশাহী ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

আজকাল টিকিট কাটার ঝামেলা অনেক কমে গেছে। স্টেশনে ভিড় বা লাইন ধরার দিন শেষ। রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটই এখন টিকিট কাটার মূল প্লাটফর্ম। এখানে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো:

ধাপ–১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ

  • গুগলে সার্চ করুন Bangladesh Railway e-ticket।
  • অথবা সরাসরি যান: eticket.railway.gov.bd
  • রেজিস্ট্রেশন করুন (যদি আগে না করে থাকেন)
  • এরপর লগইন করুন।

ধাপ–২: রুট নির্বাচন

  • From: Dhaka
  • To: Rajshahi
  • তারিখ নির্বাচন করুন
  • Search Train বাটনে চাপ দিন।

ধাপ–৩: ট্রেন সিলেকশন

টিকিট কাটার জন্য সিল্কসিটি, ধুমকেতু, পদ্মা—যে কোনো ট্রেন নির্বাচন করতে পারবেন।

ধাপ–৪: সিট নির্বাচন

প্রত্যেক ট্রেনে S-Chair, Snigdha বা AC Seat অপশন দেখাবে। এখান থেকে নিজের বাজেট অনুযায়ী নির্বাচন করুন।

ধাপ–৫: ভেরিফিকেশন

মোবাইলে একটি OTP যাবে। সেটি বসিয়ে ভেরিফাই করুন।

ধাপ–৬: পেমেন্ট

টিকিটের মূল্য দিতে পারবেন যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমে:

  • বিকাশ
  • নগদ
  • রকেট
  • উপায়
    অথবা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড।

ধাপ–৭: টিকিট ডাউনলোড

পেমেন্ট সফল হলে ইমেইলে টিকিট চলে যাবে। চাইলে মোবাইলেই সংরক্ষণ করতে পারেন, অথবা প্রিন্ট বের করে নিতে পারবেন।


ঢাকা থেকে রাজশাহী দূরত্ব ও যাত্রার সময়

এই অংশটি সবসময় যাত্রীদের মাথায় থাকে—ঢাকা থেকে রাজশাহী আসলে কত দূর? আর সময় কত লাগে?

  • রেলপথে দূরত্ব: প্রায় ৩৪৩ কিলোমিটার
  • ট্রেনে সময় লাগে: ৫–৮ ঘণ্টা
  • বাসে: ৫–৯ ঘণ্টা
  • বিমানে: ৫০ মিনিট–১ ঘণ্টা

যাত্রার নির্দিষ্ট সময় নির্ভর করে ট্রেনের ধরনের ওপর, আবহাওয়া, প্রযুক্তিগত সমস্যা ইত্যাদির ওপর।সিল্কসিটি এক্সপ্রেস: যাত্রীদের কাছে কেন এটি এত জনপ্রিয়

সিল্কসিটি এক্সপ্রেস অনেকের চোখে ঢাকা–রাজশাহী রুটের সবচেয়ে আরামদায়ক ট্রেন। দুপুরে ছাড়ে বলে সকালবেলা প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয় এবং রাত নামার আগেই রাজশাহীতে পৌঁছানো যায়। দুপুর ২:৩০ মিনিটে কমলাপুর থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে, যা যাত্রীদের মনে স্বস্তি আনে। ঢাকার ব্যস্ততা থেকে বের হয়ে যখন ট্রেন টাঙ্গাইলের সবুজ গ্রাম পেরিয়ে এগোয়, তখন যাত্রীরা এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করেন। এই ট্রেনে S-Chair, Snigdha ও AC-S আসন থাকে, যা যাত্রীদের বাজেট অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়।
অনেকেই বলে থাকেন, সিল্কসিটিতে একবার গেলে আর অন্য ট্রেন নিতে মন চায় না। কারণ এর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বেশ পরিষ্কার এবং সময়ানুবর্তিতা তুলনামূলক বেশি। যাত্রীরা নিরাপদে, আরামে এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে বলেই রুটের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনগুলোর মধ্যে এটি এক নম্বরে থাকে।

পদ্মা এক্সপ্রেস: রাতের যাত্রার সেরা আরাম

যারা রাতে ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য পদ্মা এক্সপ্রেস একটি দারুণ নির্বাচন। এটি রাত ১০:৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে রওনা দেয় এবং ভোর ৪টার আগেই রাজশাহীতে পৌঁছায়। রাতের যাত্রা হওয়ায় ভিড় থাকে তুলনামূলক কম, আর ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ বেশ শান্ত। যারা রাতেই ঘুমিয়ে সকালে কাজে যোগ দিতে চান বা দ্রুত রাজশাহী পৌঁছাতে চান, তাদের কাছে এই ট্রেনটি বিশেষ প্রিয়।
পদ্মা এক্সপ্রেসের Snigdha ও AC-B আসন বিশেষ আরামদায়ক, দূরপাল্লার রাতে ভ্রমণের জন্য উপযোগী। অনেক যাত্রী বলেন, ট্রেনটি বেশ মসৃণভাবে চলে, বিশেষ করে মাঝরাতের পর থেকে পথটা আরও আরামদায়ক লাগে। সকল স্টেশনে থামে না বলেই যাত্রার সময় কম লাগে। তাই দ্রুত, আরামদায়ক এবং নিরাপদ রাতের যাত্রা চাইলে পদ্মা এক্সপ্রেস একটি দুর্দান্ত পছন্দ।

ধুমকেতু এক্সপ্রেস: সকালের প্রথম ভরসা

ঢাকা থেকে সকালে রাজশাহী যাওয়ার জন্য ধুমকেতু এক্সপ্রেস একটি আদর্শ ট্রেন। সকাল ৬:০০টায় ট্রেনটি ছাড়ে, ফলে দিনের প্রথম ভাগেই যাত্রীরা রাজশাহীতে পৌঁছে যায়। যারা দিনের কাজ সারতে সকালে পৌঁছাতে চান বা রাজশাহী গিয়ে সরাসরি অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যবসায়িক কাজে যোগ দিতে চান, তারা এই ট্রেনকেই বেছে নেন।
ধুমকেতুর বিশেষ দিক হলো, এটি সকালবেলার ট্রেন হওয়ায় সময়ানুবর্তিতা তুলনামূলক বেশি থাকে। ট্রেনটির S-Chair, Snigdha ও AC-S আসন বিভাগ যাত্রীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। এছাড়াও দিনের আলোতে যাত্রা হওয়ায় জানালার বাইরে বিস্তৃত গ্রামবাংলার দৃশ্য চোখে পড়ে, যা যাত্রাকে আরও মনোরম করে তোলে।

বনলতা এক্সপ্রেস: দ্রুততম নন-স্টপ সেবা

বনলতা এক্সপ্রেসকে অনেকেই ঢাকা–রাজশাহী রুটের ‘ফাস্টেস্ট ট্রেন’ বলে থাকেন। দুপুর ১:৩০ মিনিটে এটি ঢাকা থেকে ছাড়ে এবং মাত্র কিছু অল্প স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে বিকালেই রাজশাহীতে পৌঁছে যায়। যারা দ্রুত সময় বাঁচিয়ে যাত্রা করতে চান, নন-স্টপ অভিজ্ঞতা পেতে চান, তাদের কাছে এই ট্রেনটি অসাধারণ।
ট্রেনটির নামের মতোই এর যাত্রা মসৃণ ও আরামদায়ক। Snigdha ও AC-S আসনের পরিবেশ যথেষ্ট উন্নত মানের, পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্যও দারুণ। যাত্রীরা বলেন, বনলতা এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করলে সময় বাঁচে এবং ক্লান্তিও কম লাগে।

মধুমতি এক্সপ্রেস: মাওয়া–পদ্মা রুটের নতুন অভিজ্ঞতা

মধুমতি এক্সপ্রেস তুলনামূলক নতুন রুট—মাওয়া-পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করে। ফলে যাত্রীরা নতুন স্টেশন ও নতুন রুটের অভিজ্ঞতা পান। দুপুর ৩টা সময় ছাড়ায় বলে দিনের আলোতেই যাত্রা সম্পন্ন হয়। ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুরসহ নানা অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য এই ট্রেনটি এক বিশাল সুবিধা নিয়ে এসেছে।
এই ট্রেনে S-Chair ও AC-S দুটি প্রধান আসন বিভাগ আছে। নতুন রুটের কারণে যাত্রীরা বলেন, পথটি নতুন বলে ভ্রমণটা বেশ আকর্ষণীয় লাগে। এছাড়া ট্রেনটির স্টেশন লিস্টও দীর্ঘ, ফলে বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সহজে যাতায়াত করতে পারছেন।

ঢাকার স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠার সহজ প্রস্তুতি

ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করতে হলে জানা জরুরি কোন স্টেশন থেকে ট্রেন ধরবেন। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন হলো প্রধান কেন্দ্র, তবে বিমানবন্দর স্টেশন থেকেও কিছু ট্রেনে ওঠা যায়। কমলাপুরের ভিড় অনেক সময় বেশি থাকে। তাই যাত্রার অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট আগে পৌঁছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
টিকিট অনলাইনে কাটা থাকলে স্টেশন প্রবেশের পর শুধু সিকিউরিটি চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আর যদি কাউন্টার থেকে নিতে চান, তবে আগেই লাইনে দাঁড়াতে হবে। সাধারণত ছুটির দিন বা শুক্রবারে যাত্রী বেশি থাকে, তাই তখন আরও আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

ট্রেনে চলার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং যাত্রীদের সাধারণ অনুভূতি

ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটটি দীর্ঘ হলেও অনেকেই ট্রেনে যাত্রা করতে পছন্দ করেন। কারণ ট্রেন কখনোই বাসের মতো ঝাঁকুনি দেয় না, আর সড়ক দুর্ঘটনার ভয়ও কম থাকে। ট্রেনের জানালা দিয়ে যখন বিস্তৃত ধানের ক্ষেত চোখে পড়ে, তখন যাত্রা এক ধরনের মানসিক শান্তি এনে দেয়।
অনেকেই বলেন, এ রুটের ট্রেনগুলো সাধারণত পরিষ্কার থাকে, বিশেষ করে আন্তঃনগরগুলো। সিটও আরামদায়ক এবং খাবারের ব্যবস্থাও মোটামুটি মানসম্মত। কেউ কেউ ল্যাপটপে কাজ করেন, কেউ গান শুনেন, আর কেউ জানালা দিয়ে প্রকৃতি উপভোগ করেন।

ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটের দূরত্ব ও যাত্রার বাস্তব অভিজ্ঞতা

রেলপথে ঢাকা থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় ৩৪৩ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ রুট অতিক্রম করতে সময় লাগে ৫–৮ ঘণ্টা। তবে ট্রেনভেদে সময় কম বেশি হতে পারে। নন-স্টপ বা কম স্টপেজ ট্রেনগুলো দ্রুত পৌঁছায়।
যাত্রীরা বলেন, বাসে গেলে রাস্তার যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বা ক্লান্তি বেশি থাকে। বিপরীতে ট্রেনে গেলে যাত্রা নিরাপদ এবং আরামে কাটে। তাই শিক্ষার্থী, পরিবার, পর্যটক সবাই ট্রেনই পছন্দ করেন।

অনলাইনে টিকিট কাটার সুবিধা

বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিট সিস্টেমের ফলে এখন ঘরে বসেই খুব সহজে টিকিট কাটা যায়। eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে লগইন করে কাঙ্ক্ষিত তারিখ, ট্রেন ও আসন বিভাগ সিলেক্ট করলেই টিকিট বুক করা যায়।
মোবাইল ব্যাংকিং, যেমন বিকাশ, নগদ, রকেট অথবা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়। তারপর ইমেইলে টিকিট চলে আসে। যাত্রীর শুধু প্রিন্ট করে নিতে হবে বা মোবাইলে স্ক্রিনশট দেখালেই হয়।
অনলাইন টিকিটের সুবিধা হলো—লাইনে দাঁড়াতে হয় না, ঝামেলাহীন, সময় বাঁচে এবং টিকেট মিস হওয়ার ভয় থাকে না।


জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর (FAQs)

১. ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের সময়সূচী কোথায় পাব?
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং এই আর্টিকেলে সর্বশেষ আপডেটসহ বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া আছে।

২. কোন ট্রেনটি সবচেয়ে দ্রুত রাজশাহী পৌঁছায়?
বনলতা এক্সপ্রেস সাধারণত দ্রুততম সেবা দিয়ে থাকে।

৩. অনলাইন টিকিট কাটার পর কি প্রিন্ট নিতে হবে?
না, মোবাইলে স্ক্রিনশট দেখালেও হয়। তবে প্রিন্ট নিলে আরও সুবিধা হয়।

৪. কোন ট্রেনে রাতের যাত্রা আরামদায়ক?
পদ্মা এক্সপ্রেস রাতের যাত্রার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

৫. কোন ট্রেনে সস্তায় ভ্রমণ করা যায়?
S-Chair আসন সব ট্রেনেই তুলনামূলক কম দাম।

৬. ট্রেনে কি খাবার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ আন্তঃনগরে খাবারের ব্যবস্থা থাকে।

৭. প্রতিদিন কি এই রুটে ট্রেন চলে?
হ্যাঁ, তবে প্রতিটি ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকে।

TrainGuideBD

At TrainGuideBD, our mission is simple: to make your train travel experience in Bangladesh easier, faster, and more convenient.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment