রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, অফ ডে, স্টপেজ এবং টিকিটের দাম

By: TrainGuideBD

On: January 18, 2026

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

বাংলাদেশে ট্রেনভ্রমণ মানেই এক আলাদা অনুভূতি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষদের কাছে রংপুর রুটের ট্রেন যেন এক আস্থার প্রতীক। সেই আস্থার জায়গা আরও দৃঢ় করেছে রংপুর এক্সপ্রেস, যা ঢাকা ও রংপুরের মাঝে দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করেছে।
এই আর্টিকেলে আমরা সহজ ও কথোপকথনের ভঙ্গিতে জানবো রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, অফ ডে, স্টপেজ এবং টিকিটের দাম– যাতে নতুন যাত্রীরাও সব তথ্য এক জায়গায় বুঝে নিতে পারেন। লেখাটি এমনভাবে সাজানো, যেন আপনি আমার সাথে বসে আলাপ করতে করতে ট্রেনভ্রমণের গল্প শুনছেন।


Table of Contents

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন: উত্তরবঙ্গের মানুষের ভরসার যাত্রীসাথী

রংপুর এক্সপ্রেস প্রথম চালু হয়েছিল ২০১১ সালের ২১ আগস্ট। শুরুর দিকে খুব সাধারণ রেক দিয়ে চালানো হলেও সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছে ট্রেনের রূপ। এখন ট্রেনটি চলে আধুনিক লাল-সবুজ রঙের রেকে, যা দেখতে যেমন সুন্দর, ভেতরে তেমনি আরামদায়ক।
অনেক যাত্রীরই অভিজ্ঞতা হলো—ঢাকা থেকে রংপুর কিংবা রংপুর থেকে ঢাকার যাত্রায় এই ট্রেন সময়মতোই চলে। যাত্রীদের কাছে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো একটি বিশাল সুবিধা। এর সাউন্ড সিস্টেম, আরামদায়ক আসন, পরিষ্কার টয়লেট, খাবার পরিবেশন, এসি বগি—সব মিলিয়ে রংপুর এক্সপ্রেস বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন।

এটি সপ্তাহে ছয় দিন চলে, আর গড়ে ১৬টি স্টেশনে থামে। তাই যারা উত্তরবঙ্গে মাঝপথের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেন, তাঁদের কাছেও এই ট্রেনটি সমান গুরুত্বপূর্ণ।


রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী: ২০২৫ সালের নতুন আপডেট

যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় সঠিক সময়সূচী। কারণ আপনি কখন স্টেশনে পৌঁছাবেন, কখন ট্রেনে উঠবেন—সবই নির্ভর করে সময়ের ওপর। ২০২৫ সালের নতুন শিডিউল অনুযায়ী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী হলো:

ঢাকা থেকে রংপুরগামী (৭৭১ আপ)

ঢাকা (কমলাপুর) থেকে ছাড়ে সকাল ৯:১০ মিনিটে
রংপুর পৌঁছায় সন্ধ্যা ৭:০৫ মিনিটে

রংপুর থেকে ঢাকাগামী (৭৭২ ডাউন)

রংপুর থেকে ছাড়ে সকাল ৮:১০ মিনিটে
ঢাকা পৌঁছায় বিকেল ৬:১৫ মিনিটে

সময়সূচী বদলালে সাধারণত রেলওয়ের অফিসিয়াল নোটিশে আপডেট আসে। তবে সাধারণ যাত্রীরা নিয়মিত যে সময়গুলোই ব্যবহার করেন, সেটিই এখানে তুলে ধরা হলো। যদি কখনো মনে হয় ট্রেন দেরি করছে, তখন আপনি চাইলে এসএমএস সার্ভিসের সাহায্যেও ট্রেনের অবস্থান জানতে পারবেন।


রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের অফ ডে: কোন দিন ট্রেন বন্ধ

অনেক যাত্রীই ভুল করে ভুল দিনে স্টেশনে চলে যান, তাই অফ ডে জানা অত্যন্ত জরুরি। রংপুর এক্সপ্রেসে রয়েছে দুইটি ভিন্ন ছুটির দিন—যাত্রার দিক অনুযায়ী আলাদা।

  • ঢাকা থেকে রংপুরগামী (৭৭১ আপ): সোমবার বন্ধ
  • রংপুর থেকে ঢাকাগামী (৭৭২ ডাউন): রবিবার বন্ধ

অর্থাৎ আপনি যদি ঢাকায় থাকেন এবং রংপুর যেতে চান, সোমবার স্টেশনে গেলে ট্রেন পাবেন না। আর যদি রংপুরে থাকেন—রবিবার ট্রেন চলবে না।
এই তথ্যটা ছোট হলেও যাত্রীদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।


রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন কোথায় কোথায় থামে

একটি ট্রেনের স্টপেজ জানা মানে আপনার যাত্রার পরিকল্পনা আরও সহজ হওয়া। বিশেষ করে যারা মাঝপথের স্টেশনগুলো থেকে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য স্টপেজ তালিকা প্রয়োজনীয়।

রংপুর এক্সপ্রেস মোট ১৬টি স্টেশনে থামে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে রংপুর রুটে স্টপেজগুলো হলো:

রংপুর এক্সপ্রেস স্টপেজ তালিকা

স্টেশনের নামছাড়ার সময়
কমলাপুর৯:১০ AM
বিমানবন্দর৯:৩৮ AM
সেতু পূর্ব (ইব্রাহিমাবাদ)১১:৩৮ AM
চাটমোহর১২:৫৪ PM
নাটোর১:৫২ PM
সান্তাহার৩:১০ PM
তালোড়া৩:৩৫ PM
বগুড়া৩:৫৯ PM
সোনাতলা৪:৩১ PM
বোনারপাড়া৪:৫০ PM
গাইবান্ধা৫:২৩ PM
বামনডাঙ্গা৫:৫৪ PM
পীরগাছা৬:১৩ PM
কাউনিয়া৬:৪৯ PM
রংপুর৭:১০ PM
কুড়িগ্রাম৭:২০ PM

এ তালিকা থেকেই বোঝা যায় উত্তরবঙ্গের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনকে সংযুক্ত করে এই ট্রেনটি চলে। ফলে যাত্রীদের ভরসার জায়গা আরও বেড়ে যায়।


রংপুর এক্সপ্রেসের বিশেষত্ব: কীভাবে আলাদা এই ট্রেন

রংপুর এক্সপ্রেস শুধু একটি ট্রেন নয়, উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান। অনেকেই বলেন—বাসের বদলে ট্রেনে যাওয়া মানেই আরও আরাম, নিরাপত্তা আর শান্তির যাত্রা।

ট্রেনটির কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:

  • অত্যাধুনিক লাল-সবুজ রঙের রেক
  • আরামদায়ক সিট
  • পর্যাপ্ত লেগস্পেস
  • উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
  • এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের বগি
  • পরিচ্ছন্ন টয়লেট
  • খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা
  • মোবাইল চার্জিং পোর্ট
  • সাউন্ড সিস্টেম

যারা নিয়মিত উত্তরবঙ্গে ভ্রমণ করেন, তাঁরা জানেন—আরামদায়ক টয়লেট ও সিট ট্রেনভ্রমণে বড় বিষয়। রংপুর এক্সপ্রেস সেই সুবিধাগুলো আগেই দিয়েছে, তাই যাত্রীরা সন্তুষ্ট।


রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের দাম: ২০২৫ সালের আপডেট

ভাড়া বিষয়টি অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রিজার্ভেশন বা অনলাইন টিকিট কাটা—সবই নির্ভর করে আপনার বাজেটের ওপর।
২০২৫ সালের আপডেট অনুযায়ী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের দাম হলো:

ক্যাটাগরিভাড়া
শোভন চেয়ার৬৮০ টাকা + ভ্যাট
এসি চেয়ার১৫৫৯ টাকা
স্নিগ্ধা১৩০০ টাকা

যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করা ট্রেনগুলোকে টোল দিতে হয়, তাই ভাড়ায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তবে ঢাকা–রংপুর রুটের তুলনায় এই ভাড়াগুলো এখনও তুলনামূলকভাবে যাত্রীবান্ধব বলা যায়।


রংপুর এক্সপ্রেস অনলাইন টিকেট বুকিং: কয়েক ধাপে সম্পন্ন

আজকাল যাত্রীরা স্টেশন থেকে টিকিট কাটার চেয়ে অনলাইনে টিকেট কাটা বেশি পছন্দ করেন। কারণ এতে সময় বাঁচে, লাইনে দাঁড়াতে হয় না এবং যাত্রার আগেই সব নিশ্চিত করে রাখা যায়।

অনলাইনে টিকিট বুকিং করার সহজ ধাপগুলো হলো:

  • বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং সাইটে প্রবেশ করুন
  • একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন বা লগইন করুন
  • যাত্রার স্থান ও গন্তব্য নির্বাচন করুন
  • তারিখ, কোচ ও আসন নির্বাচন করুন
  • অনলাইন পেমেন্ট করুন
  • ডিজিটাল টিকিট আপনার ফোনে বা ইমেইলে সংরক্ষণ করুন

অনলাইনে টিকিট কেটে স্টেশনে যাওয়ার সময় প্রিন্ট কপি নেওয়া ভালো, যদিও ডিজিটাল কপিও গ্রহণযোগ্য।


রংপুর এক্সপ্রেসের আসন ব্যবস্থা: যাত্রীদের জন্য বৈচিত্র্যময় কোচ

রংপুর এক্সপ্রেসে রয়েছে ১৪টিরও বেশি বগি, যার মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির কোচ রয়েছে। বগির সংখ্যা ট্রেনের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানো কমানো হয়।
এই ট্রেনে সাধারণত থাকে:

  • শোভন চেয়ার
  • এসি চেয়ার
  • স্নিগ্ধা
  • এসি কেবিন
  • এসি খাবার বগি
  • নন-এসি খাবার বগি

যারা স্বস্তিদায়ক ও শান্ত সিট চান, স্নিগ্ধা বা এসি চেয়ার ভালো পছন্দ হতে পারে। আবার যারা বাজেটমাফিক ভ্রমণ করতে চান, তাঁদের জন্য শোভন চেয়ারই যথেষ্ট আরামদায়ক।ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা

রংপুর এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করার সময় কিছু বিষয় মেনে চললে যাত্রা হবে আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ। অনেক নতুন যাত্রী স্টেশনে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন, যার ফলে যাত্রার সময় অযথা দেরি বা ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই আগেভাগেই কিছু প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

প্রথমত, টিকিট কেনার পর সঙ্গে একটি বৈধ পরিচয়পত্র বহন করা জরুরি। অনলাইনে টিকিট কাটলে অবশ্যই ডিজিটাল কপি বা প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখুন। স্টেশনে প্রবেশের পর নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় টিকিট যাচাই করতে বলা হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত সময়ের কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো উচিত। কারণ বড় রুটের ট্রেনগুলো সাধারণত সময়মতো প্ল্যাটফর্ম ছাড়ে। একটু দেরি হয়ে গেলে ট্রেন মিস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তৃতীয়ত, ট্রেনে ওঠার পর নিজের মূল্যবান জিনিসপত্র সবসময় কাছে রাখুন। ব্যাগ বা লাগেজ সিটের ওপর বা মাথার ওপরে রাখতে পারেন। যাত্রা চলাকালীন অপরিচিত কাউকে মূল্যবান জিনিস সামলাতে দেবেন না।

শেষে, যাত্রার সময় প্রয়োজনীয় পানি, ওষুধ বা অন্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে রাখলে সুবিধা হয়। যদিও ট্রেনে খাবার সরবরাহ ও পানীয়ের ব্যবস্থা থাকে, তবুও নিজের প্রয়োজনমতো কিছু জিনিস সঙ্গে থাকলে ভ্রমণ আরও সহজ হবে।


রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইতিহাস: আধুনিক উত্তরবঙ্গের যাত্রীসেবার সূচনা

রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের ২১ আগস্ট। উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি দ্রুতগতির, আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য আন্তঃনগর ট্রেন। সেই প্রয়োজন পূরণ করার জন্যই রংপুর এক্সপ্রেস পথচলা শুরু করে।

শুরুর দিকে সাধারণ বগি দিয়ে চালু হলেও, যাত্রীচাহিদা এবং রেলওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সময়ের সাথে এর রেক পরিবর্তন করা হয়। এখন এটি চলে আধুনিক লাল-সবুজ বগিতে, যেখানে আরাম, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও সেবার সমন্বয় করা হয়েছে।

ট্রেনটি চালুর পর থেকে উত্তরবঙ্গ–ঢাকা রুটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। আগে মানুষ দীর্ঘ বাস যাত্রায় ক্লান্ত হয়ে যেত, বিশেষ করে রাতের ট্রাফিক ও হাইওয়ের ঝুঁকি ছিল বড় সমস্যা। রংপুর এক্সপ্রেস আসার পর সেই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

আজ এটি শুধু একটি ট্রেন নয়—বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ব্যবসায়ী, ছাত্র, পর্যটক, চিকিৎসা নিতে ঢাকায় যাওয়া মানুষ—সবাই সমানভাবে এই ট্রেনের ওপর ভরসা করেন।


রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, অফ ডে, স্টপেজ এবং টিকিটের দাম: সহজ একটি সারাংশ

লেখার এই অংশে মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো, যাতে যেকোনো যাত্রী দ্রুত চোখ বুলিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।

রংপুর এক্সপ্রেস সময়সূচী ২০২৫

  • ঢাকা থেকে ছাড়ে সকাল ৯:১০
  • রংপুর পৌঁছায় ৭:০৫
  • রংপুর থেকে ছাড়ে সকাল ৮:১০
  • ঢাকা পৌঁছায় ৬:১৫

অফ ডে

  • ঢাকা থেকে রংপুর: সোমবার
  • রংপুর থেকে ঢাকা: রবিবার

স্টপেজ (১৬টি)

কমলাপুর, বিমানবন্দর, সেতু পূর্ব (ইব্রাহিমাবাদ), চাটমোহর, নাটোর, সান্তাহার, তালোড়া, বগুড়া, সোনাতলা, বোনারপাড়া, গাইবান্ধা, বামনডাঙ্গা, পীরগাছা, কাউনিয়া, রংপুর, কুড়িগ্রাম

টিকিটের দাম

  • শোভন চেয়ার: ৬৮০ টাকা + ভ্যাট
  • স্নিগ্ধা: ১৩০০ টাকা
  • এসি চেয়ার: ১৫৫৯ টাকা

এই চারটি বিষয়—রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, অফ ডে, স্টপেজ এবং টিকিটের দাম—যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজনমতো বারবার দেখে নিলে যাত্রা আরও সুষ্ঠু হবে।


রংপুর এক্সপ্রেস এখন কোথায়: কীভাবে রিয়েলটাইম ট্রেনের অবস্থান জানবেন

অনেক যাত্রীই ট্রেনে ওঠার আগে জানতে চান—ট্রেনটি এখন কোথায়? দেরি করছে কি? সময়মতো আসবে কি?
বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের জন্য একটি সুবিধা চালু করেছে।

আপনি চাইলে মোবাইল থেকে এসএমএস পাঠিয়ে রংপুর এক্সপ্রেসের লাইভ লোকেশন জানতে পারবেন।

ধাপ:
মোবাইলে লিখুন:
TR771 (যদি উপ দিকে জানতে চান), TR772 (যদি ডাউন দিকে জানতে চান)
এবং পাঠিয়ে দিন: 16318 নম্বরে

এর জন্য ৫ টাকা চার্জ কাটা হবে।
এছাড়া বিভিন্ন রেলওয়ে তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইটেও ট্রেন লাইভ ট্র্যাক করার সুবিধা থাকে।


রংপুর এক্সপ্রেস: যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব অনুভূতি

অনেক যাত্রীই জানান—রংপুর এক্সপ্রেসে চড়লে ভ্রমণের ক্লান্তি তেমন থাকে না। বিশেষ করে ঢাকা থেকে রংপুর রুটের বাস যাত্রা যে লম্বা ও ক্লান্তিকর, তার তুলনায় ট্রেনে বসে যাওয়া অনেক আরামদায়ক।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী—

  • ট্রেনের সিট কমফোর্টেবল
  • ভেতরের বাতাস পরিষ্কার
  • টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
  • সময়মতো পৌঁছানোর প্রবণতা বেশি
  • খাবার পরিবেশন ভালো
  • নিরাপত্তার ব্যবস্থা সন্তোষজনক

যদিও মাঝে মাঝে শিডিউল বিপর্যয় বা সিটসংখ্যা নিয়ে সমস্যা দেখা যায়, তবুও সামগ্রিকভাবে ট্রেনটি দেশের অন্যতম ভালো সার্ভিস প্রদানকারী আন্তঃনগর হিসেবে বিবেচিত।


কেন রংপুর এক্সপ্রেস উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ট্রেন

আমি নিজে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে ট্রেনে ভ্রমণ করেছি। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি—রংপুর এক্সপ্রেস সত্যিই এক নির্ভরযোগ্য ট্রেন। এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে।

প্রথমত, সময় ধরে চলার বিষয়ে রংপুর এক্সপ্রেসের সুনাম রয়েছে। দ্বিতীয়ত, আধুনিক লাল-সবুজ কোচ যাত্রাকে আরও আরামদায়ক করে তোলে। তৃতীয়ত, স্টপেজ তালিকা এমনভাবে সাজানো যে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান কভার করে।

সবচেয়ে বড় কথা—নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মান অনেক উন্নত। অনেক যাত্রী পরিবারসহ ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, কারণ এতে যাত্রার পুরো সময় নিরাপদ অনুভূত হয়।

এই কারণেই রংপুর এক্সপ্রেস অনেকের কাছে শুধু একটি ট্রেন নয়, ভরসার নাম।


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী কত?

ঢাকা থেকে সকাল ৯:১০-এ ছাড়ে এবং রংপুর পৌঁছায় ৭:০৫-এ। রংপুর থেকে সকাল ৮:১০-এ ছাড়ে এবং ঢাকা পৌঁছায় ৬:১৫-এ।

রংপুর এক্সপ্রেস কোন দিন বন্ধ থাকে?

ঢাকা থেকে সোমবার এবং রংপুর থেকে রবিবার।

রংপুর এক্সপ্রেস কয়টি স্টেশনে থামে?

মোট ১৬টি স্টেশনে থামে।

রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিটের দাম কত?

শোভন চেয়ার ৬৮০ + ভ্যাট, স্নিগ্ধা ১৩০০, এসি চেয়ার ১৫৫৯ টাকা।

রংপুর এক্সপ্রেসের কোড নম্বর কী?

ঢাকা–রংপুর আপ: ৭৭১, রংপুর–ঢাকা ডাউন: ৭৭২।

রংপুর এক্সপ্রেস কখন চালু হয়?

২০১১ সালের ২১ আগস্ট।

রংপুর এক্সপ্রেস এখন কোথায় জানতে হলে কী করতে হবে?

TR771 বা TR772 লিখে 16318 নম্বরে এসএমএস পাঠান।


উপসংহার

উত্তরবঙ্গের মানুষের যাতায়াতকে সহজ, দ্রুত ও আরামদায়ক করতে রংপুর এক্সপ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই ট্রেনে ভরসা করে যাতায়াত করেন। তাই যাত্রার আগে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, অফ ডে, স্টপেজ এবং টিকিটের দাম ভালোভাবে জেনে নিলে আপনার ভ্রমণ আরও সুশৃঙ্খল হবে।

এই গাইডটি একেবারে আপডেট, বিস্তারিত ও সহজভাবে লেখা—যাতে নতুন যাত্রীরাও কোনো ঝামেলা ছাড়াই সবকিছু বুঝে নিতে পারেন।

TrainGuideBD

At TrainGuideBD, our mission is simple: to make your train travel experience in Bangladesh easier, faster, and more convenient.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment