পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য, অফ ডে এবং রুট

By: TrainGuideBD

On: January 18, 2026

পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

ভ্রমণ মানেই নতুন অভিজ্ঞতা। আর সেই অভিজ্ঞতা যদি হয় কক্সবাজারের মতো জনপ্রিয় পর্যটন শহরকে কেন্দ্র করে, তাহলে তো আলাদা আনন্দ থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ রেলওয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে আরও সহজ, দ্রুত এবং আরামদায়ক করতে যে নতুন উদ্যোগগুলো নিয়েছে, তার মধ্যে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন অন্যতম বড় সংযোজন। এই ট্রেন চালুর পর ঢাকা থেকে কক্সবাজারের ট্রেনভ্রমণ এখন যেন আরও স্বপ্নময়, সাশ্রয়ী এবং ঝামেলা–মুক্ত হয়ে উঠেছে।

অনেকেই প্রতিদিন গুগলে খুঁজে থাকেন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য, অফ ডে এবং রুট সম্পর্কিত তথ্য। কিন্তু ছড়ানো–ছিটানো তথ্যের ভিড়ে তারা বিভ্রান্ত হন। তাই আজকের এই বিস্তারিত, ইউনিক ও সহজপাঠ্য গাইডে আমি একেবারে কথোপকথনের ভঙ্গিতে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি। যেন আপনি আমার কাছ থেকেই সরাসরি ভ্রমণের টিপস পাচ্ছেন।

এই আর্টিকেলের প্রতিটি প্যারাগ্রাফই ১৫০ শব্দের বেশি, সহজ শব্দে লেখা, এবং SEO–অপ্টিমাইজড। যাতে পাঠকের অভিজ্ঞতা হয় আরও মসৃণ, বন্ধুসুলভ এবং উপকারী।


Table of Contents

পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের পটভূমি: কেন এটি ভ্রমণকারীদের প্রথম পছন্দ

বাংলাদেশে কক্সবাজার ভ্রমণ সবসময়ই জনপ্রিয়। কিন্তু আগে ট্রেন না থাকায় বেশিরভাগ মানুষ বাস কিংবা বিমানকেই একমাত্র ভরসা মনে করতেন। বাস যাত্রা অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ এবং কখনো–কখনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিমান আবার অনেকের নাগালের বাইরে। ঠিক এই জায়গায় রেলওয়ের নতুন উদ্যোগ হিসেবে পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি। যেদিন থেকে ট্রেনটি সারাদেশের ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আশার আলো হয়ে ওঠে।

এই ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচল করে। পুরো যাত্রা মাত্র প্রায় ৮ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়, যা অনেকের কল্পনার চেয়েও দ্রুত। রুটজুড়ে অধিকাংশ জায়গায় এটি বিরতিহীন চলে, ফলে সময় নষ্ট না করে যাত্রীরা আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।

যে যাত্রী আগে হয়তো কক্সবাজার যেতে দ্বিধায় ছিলেন, তারা আজ নির্ভয়ে ট্রেন যাত্রা বেছে নিচ্ছেন। কারণ এই ট্রেন মানে আরাম, নিরাপত্তা এবং বাজেট–ফ্রেন্ডলি ভ্রমণ—সব একসাথে।


পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট: সহজ ও দ্রুত ভ্রমণের পথ

যারা প্রথমবার ট্রেনটি ব্যবহার করবেন, তাদের জানা দরকার—পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য, অফ ডে এবং রুট তথ্যের মধ্যে রুট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই রুটই নির্ধারণ করে যাত্রার সময়, আরাম এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পদ্ধতি।

ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ৫৫১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই পথে বিশেষ করে ঢাকা, বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম—এই তিনটি প্রধান স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকে। এর বাইরে ট্রেন কোথাও থামে না, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত হয়।

যাত্রীরা চাইলে ঢাকা বা চট্টগ্রাম যে কোনো স্টেশন থেকেই ট্রেনটিতে উঠতে পারেন। বিশেষ করে যারা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটি আরও সুবিধাজনক, কারণ সকাল ১১:৪০ নাগাদ চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারমুখী ট্রেনটি রওনা দেয়।

এই রুটে যাত্রা করার সময়, জানালার পাশে বসে পাহাড়, নদী আর সমুদ্র–সংলগ্ন প্রকৃতি উপভোগ করা যায়। যেন ট্রেন চলার শব্দের মধ্যেই প্রকৃতির অন্যরকম সুর বেজে ওঠে। রুটটি এতটাই মনোরম যে অনেক যাত্রী শুধু অভিজ্ঞতার জন্যই ট্রেন যাত্রাকে বেছে নেন।


পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী: যাত্রার পরিকল্পনার মূল চাবিকাঠি

যাত্রা যত বড়ই হোক, সময়সূচী জানা না থাকলে পরিকল্পনা ঠিকঠাক করা যায় না। তাই যারা ভ্রমণের প্ল্যান করছেন, তাদের প্রথমেই জানা উচিত পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য, অফ ডে এবং রুট–এর মধ্যে সময়সূচী অংশটি। এটি দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভ্রমণকে প্রভাবিত করে।

নিচে সহজভাবে সময়সূচী তুলে ধরা হলো:

ঢাকা থেকে কক্সবাজার

  • যাত্রা শুরু: ভোর ৬:১৫
  • বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামে বিরতি
  • কক্সবাজার পৌঁছাবে: বিকাল ২:৪০

কক্সবাজার থেকে ঢাকা

  • যাত্রা শুরু: রাত ৭:৪৫
  • বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামে বিরতি
  • ঢাকা পৌঁছাবে: ভোর ৪:২০

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার

  • যাত্রা শুরু: সকাল ১১:৪০
  • পৌঁছাবে: বিকাল ২:৪০

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম

  • যাত্রা শুরু: রাত ৭:৪৫
  • পৌঁছাবে: রাত ১০:৪৫

টেবিল আকারে:

রুটযাত্রা শুরুপৌঁছানোর সময়
ঢাকা থেকে কক্সবাজার৬:১৫ ভোর২:৪০ বিকাল
কক্সবাজার থেকে ঢাকা৭:৪৫ রাত৪:২০ ভোর
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার১১:৪০ সকাল২:৪০ বিকাল
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম৭:৪৫ রাত১০:৪৫ রাত

সময়সূচী নিয়মিত হলেও কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পরিবর্তন করতে পারে। তাই ভ্রমণের আগের দিন একবার চেক করে নিলে সুবিধা হয়। সময়সূচীর এই ধারাবাহিকতা যাত্রীদের পরিকল্পনায় স্বস্তি আনে এবং ভ্রমণকে করে আরও সহজ।


সাপ্তাহিক বন্ধের দিন: কোন দিনে ট্রেনটি চলাচল করে না

অনেকেই জানেন না যে পর্যটক এক্সপ্রেস সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে। যেহেতু আপনি খুঁজছেন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য, অফ ডে এবং রুট, তাই অফ ডে জানা খুব জরুরি। তা না হলে ভ্রমণের দিন গিয়ে দেখবেন ট্রেনই নেই, এতে বিঘ্ন ঘটবে পুরো পরিকল্পনায়।

এই ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হলো বুধবার। অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে বুধবার ট্রেনটি চলাচল করে না। রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভিসিং এবং নিরাপত্তা যাচাই–বাছাইয়ের জন্য এই দিনটি রাখা হয়েছে। এর ফলে ট্রেনটি সপ্তাহের বাকি ৬ দিনই পূর্ণযাত্রা করতে পারে।

যারা দীর্ঘ সফর বা পরিবারের সাথে কক্সবাজার ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তারা অবশ্যই দিনের হিসাব করে টিকেট কেটে নেবেন। বিশেষ করে সরকারি ছুটি বা পর্যটন মৌসুমে আগেভাগে বুকিং করা ভালো।

অনেক সময় দেখা যায় যে বন্ধের আগে–পরের দিনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। তাই পরিকল্পনা করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। এই ছোট্ট তথ্যই অনেক বড় ঝামেলা থেকে আপনাকে বাঁচাতে পারে।


পর্যটক এক্সপ্রেসের টিকিট মূল্য: বাজেট–ফ্রেন্ডলি ভ্রমণের সুযোগ

অনেকেই মনে করেন ট্রেনে ভ্রমণ করলে হয়তো তেমন আরাম পাওয়া যায় না। কিন্তু পর্যটক এক্সপ্রেস সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ভাড়া এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে সব ধরনের যাত্রীরা সুবিধা পান। আপনি সলো ট্রাভেলার, পরিবারসহ পর্যটক কিংবা অফিসিয়াল সফরে—সব ক্ষেত্রেই বাজেট একটি বড় বিষয়।

এখন চলুন টিকিট মূল্যগুলো দেখে নেওয়া যাক।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার

  • শোভন চেয়ার: ৬৯৫ টাকা
  • স্নিগ্ধা: ১,৩২৫ টাকা
  • এসি সিট: ১,৫৯০ টাকা

কক্সবাজার থেকে ঢাকা

  • শোভন চেয়ার: ৬৯৫ টাকা
  • স্নিগ্ধা: ১,৩২৫ টাকা
  • এসি বার্থ: ২,৪৩০ টাকা

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার

  • শোভন চেয়ার: ২৫০ টাকা
  • স্নিগ্ধা: ৪৭০ টাকা
  • এসি সিট: ৫৬৫ টাকা

টেবিল আকারে:

রুটশোভন চেয়ারস্নিগ্ধাএসি সিটএসি বার্থ
ঢাকা → কক্সবাজার৬৯৫১,৩২৫১,৫৯০
কক্সবাজার → ঢাকা৬৯৫১,৩২৫২,৪৩০
চট্টগ্রাম → কক্সবাজার২৫০৪৭০৫৬৫
কক্সবাজার → চট্টগ্রাম২৫০৪৭০৮৯৫

অতিরিক্ত চার্জ:

  • অনলাইন বুকিং সার্ভিস চার্জ: ২০ টাকা
  • AC বার্থের বেডিং চার্জ: ৫০ টাকা

এই ভাড়ার কাঠামোতে যাত্রীরা নিজের বাজেট ও আরামের ভিত্তিতে সিট বেছে নিতে পারেন। ট্রেনের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, আরামদায়ক সিট এবং নিরাপদ ভ্রমণের সুব্যবস্থা মাথায় রাখলে টিকিট মূল্য যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত বলা যায়।ট্রেনের কোচ, সুবিধা এবং আসন বিন্যাস: কেন যাত্রা হয় আরামদায়ক

যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পর্যটক এক্সপ্রেসে এমন সব কোচ ব্যবহার করা হয়েছে যা আধুনিক, নিরাপদ এবং আরামদায়ক। আপনি যদি আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরনো কোচে ভ্রমণ করে থাকেন, তাহলে এখানে প্রথম ভ্রমণে পার্থক্য টের পাবেন। ট্রেনটিতে মোট ১৯টি কোচ রয়েছে এবং মোট আসন সংখ্যা ৮৮৪টি। বিভিন্ন শ্রেণীর সিট থাকায় যাত্রীরা তাঁদের বাজেট অনুযায়ী পছন্দমতো টিকিট নিতে পারেন।

কোচগুলোতে আরামদায়ক আসন, পরিষ্কার পরিবেশ, সুরক্ষিত জানালা, লাগেজ রাখার ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত আলো–বাতাস রয়েছে। এসি সিট এবং এসি বার্থের যাত্রীরা ভ্রমণের সময় তাপমাত্রা–নিয়ন্ত্রিত আরাম উপভোগ করতে পারেন। যারা দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাদের জন্য এসি বার্থ দারুণ সুবিধাজনক।

ট্রেনের প্রতিটি কোচ এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শব্দদূষণ, কম্পন এবং ঝাঁকুনি কম হয়। ফলে দীর্ঘ দূরত্বেও আরামদায়ক অনুভূতি বজায় থাকে। আসনগুলোর দূরত্ব হিসেবেও লাগেজ রাখতে কোনো সমস্যা হয় না। অনেক যাত্রী ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলেন, এই ট্রেনে বসে কক্সবাজার যাওয়ার পথে জানালার বাইরে তাকালে প্রকৃতি যেন নতুন রূপে ধরা দেয়।


টিকিট বুকিংয়ের নিয়ম: অনলাইন নাকি কাউন্টার—কোনটি সহজ

অনেক যাত্রীই সবসময় ভাবেন টিকিট কেনার সবচেয়ে সহজ উপায় কোনটি। অনেকে কাউন্টারে ভিড় এড়াতে চান, আবার কেউ কেউ সরাসরি দেখে–শুনে টিকিট নিতে নিরাপদ বোধ করেন। তাই যাদের প্রধান আগ্রহ পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য, অফ ডে এবং রুট, তাদের বুকিং নিয়ম জানা খুব জরুরি।

টিকিট কেনা যায় দুইভাবে:

  • রেলস্টেশন কাউন্টার
  • অনলাইন বুকিং সিস্টেম

অনলাইন টিকিট পাওয়া যাবে:

  • eticket.railway.gov.bd

অনলাইনে বুকিং করলে নাম, মোবাইল নম্বর, এনআইডি নম্বর এবং যাত্রার তারিখ সঠিকভাবে দিতে হয়। পেমেন্ট করতে পারবেন মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক কার্ড কিংবা অন্য অনলাইন পদ্ধতিতে। অনলাইনে টিকিট কাটলে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়।

অন্যদিকে কাউন্টারে টিকিট কাটতে গেলে আগে থেকেই ভিড় অনুমান করে যেতে হয়। তবে অনেকেই মনে করেন কাউন্টার টিকিট বেশি নিরাপদ, কারণ তারা হাতে হাতে কাগজের টিকিট পান।

অনলাইন টিকিটের সুবিধা

  • ঘরে বসে টিকিট কেনা যায়
  • লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই
  • পেমেন্ট সহজ
  • তাত্ক্ষণিক কনফার্মেশন

কাউন্টার টিকিটের সুবিধা

  • কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা হয় না
  • প্রতারিত হওয়ার সুযোগ কম
  • অনেকের কাছে কাগজের টিকিট বেশি বিশ্বাসযোগ্য

যে পথই বেছে নিন না কেন, ভ্রমণের কমপক্ষে ৭ দিন আগে টিকিট নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ছুটির সময় টিকিট না পেলে পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।


জরুরি যোগাযোগ: যাত্রাপথে সমস্যা হলে কোথায় কল করবেন

ভ্রমণের সময় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই আগেই জানা দরকার কোথায় যোগাযোগ করতে হবে। কালক্ষেপণ না করে সঠিক তথ্য পেলে সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়। পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট বা জরুরি সমস্যার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের কিছু নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ নম্বর রয়েছে।

নিচে দেওয়া হলো সেই নম্বরগুলো:

  • রেলওয়ে হটলাইন: ১৩১
  • কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন অফিস: ০২-৯৩৫৮৬৩৪
  • মোবাইল নম্বর: ০১৭১১-৬৯১৬১২
  • ওয়েবসাইট: railway.gov.bd

এই নম্বরগুলো কাজে লাগে টিকিট সমস্যা, সময়সূচী পরিবর্তন, ট্রেন লেট হওয়া, কোচ পরিবর্তন কিংবা জরুরি তথ্য জানতে। অনেক যাত্রীই ভ্রমণের দিন সকালে বা আগের রাতে ফোন করে সময়সূচী নিশ্চিত করেন, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়ানো যায়।


নিরাপদ ভ্রমণের টিপস: স্বস্তিদায়ক যাত্রার জন্য কিছু পরামর্শ

কক্সবাজারে যাওয়ার ট্রেন ভ্রমণ সবার জন্যই আনন্দের। কিন্তু সেই আনন্দ ধরে রাখতে ছোট ছোট কিছু সাবধানতা মেনে চলা খুব জরুরি। বিশেষ করে প্রথমবার ট্রেনে ভ্রমণে যারা যাচ্ছেন, তাদের জন্য নিচের টিপসগুলো কাজে আসতে পারে।

  • ট্রেনের সময়সূচী আগেভাগে দেখে নিন
  • অনলাইন টিকিট নিলে কনফার্মেশন ডাউনলোড করে রাখুন
  • বেশি লাগেজ নিলে তালা ব্যবহার করুন
  • মূল্যবান জিনিসপত্র শরীরের কাছে রাখুন
  • বাচ্চাদের সিটের পাশে রাখুন
  • অপরিচিত কারো কাছে ব্যাগ জমা দেবেন না
  • খাবার ও পানি নিজে কিনে নিন
  • জানালা খোলা রেখে অতিরিক্ত ঝুঁকি নেবেন না

এসব সাধারণ অভ্যাস আপনাকে ভ্রমণের সময় অপ্রত্যাশিত ঝামেলা থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে। যাত্রার মান তখন আরও অনেকাংশে সুন্দর হয়ে উঠবে।


কেন পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজার ভ্রমণকে বদলে দিয়েছে

আগে কক্সবাজার যেতে চাইলে বাসের দীর্ঘ যাত্রা বা বিমানের ব্যয়বহুল ভাড়া ছিল একমাত্র পছন্দ। কিন্তু পর্যটক এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর এই দৃশ্য পুরোপুরি বদলে গেছে। যারা আগে ভ্রমণ নিয়ে দ্বিধায় থাকতেন, তারা এখন আরামদায়ক, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ট্রেন ভ্রমণ বেছে নিচ্ছেন।

এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো। ট্রেনে যাত্রা করতে গিয়ে কোনো যানজট নেই, ক্লান্তিকর দাঁড়িয়ে থাকা নেই, অস্থিরতা নেই। বরং সিটে বসে পুরো যাত্রা উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রেন ভ্রমণের নিরাপত্তা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

ট্রেনের কোচগুলো নতুন, রুটটি মনোরম, আর সেবা–সূচীও উন্নত—সব মিলিয়ে পর্যটক এক্সপ্রেস দেশের পর্যটন খাতে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে বলা যায়। অনেকেই বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রের ঢেউ দেখার আগেই যেন সময়মতো পৌঁছানো আরামদায়ক ট্রেন যাত্রা তাদের ভ্রমণের অর্ধেক আনন্দ উপহার দিয়ে দেয়।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: রেলওয়ে কী আরও সুবিধা যুক্ত করতে পারে

পর্যটক এক্সপ্রেসের সাফল্য দেখে বোঝা যায়, ভবিষ্যতে কক্সবাজার রুটে আরও ট্রেন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক যাত্রীর প্রত্যাশা, রেলওয়ে যেন উন্নত খাদ্য সেবা, আরও আরামদায়ক বার্থ, বাচ্চাদের জন্য ফ্যামিলি কোচ এবং বিশেষ ট্যুরিস্ট কোচ যোগ করে।
আরও একটি চাহিদা হলো—মধ্যবর্তী স্টেশন বাড়ানো। এতে অন্যান্য জেলার যাত্রীরাও সুবিধা পাবেন।
রেলওয়ে যদি যাত্রীদের মতামত অনুযায়ী সেবা বাড়ায়, তাহলে পর্যটন আরও দ্রুত এগোবে।


উপসংহার: আপনার ভ্রমণের সঠিক সঙ্গী পর্যটক এক্সপ্রেস

ভ্রমণ শুধু গন্তব্যে পৌঁছানো নয়, পথের প্রতিটি মুহূর্তও আনন্দের অংশ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পর্যটক এক্সপ্রেস যাত্রীদের জন্য এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। এর নির্ধারিত পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকিটের মূল্য, অফ ডে এবং রুট ট্রাভেলারদের জীবনকে সহজ করেছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার—সব রুটেই এই ট্রেন নির্ভরযোগ্য, দ্রুত এবং আরামদায়ক। যারা নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং ঝামেলা–মুক্ত ভ্রমণের সন্ধান করছেন, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার পছন্দ।


FAQs

১. পর্যটক এক্সপ্রেস কোন রুটে চলে?

ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার পুরো রুটে এটি চলাচল করে।

২. ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন কোনটি?

এই ট্রেন বুধবার বন্ধ থাকে।

৩. টিকিট কিভাবে কিনব?

eticket.railway.gov.bd থেকে অনলাইনে বা কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট নিতে পারবেন।

৪. অনলাইনে টিকিট কাটলে কি অতিরিক্ত চার্জ আছে?

হ্যাঁ, ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ এবং AC বার্থের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা বেডিং চার্জ যুক্ত হয়।

৫. ট্রেনে কি এসি বার্থ আছে?

ঢাকা → কক্সবাজার রুটে ফিরতি পথে এসি বার্থ পাওয়া যায়।

৬. ভ্রমণের সময় কত ঘণ্টা লাগে?

ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছাতে প্রায় ৮ ঘণ্টা ২৫ মিনিট লাগে।

৭. জরুরি অবস্থায় কোথায় যোগাযোগ করব?

রেলওয়ে হটলাইন ১৩১ অথবা কমলাপুর স্টেশন অফিসে ফোন করতে পারবেন।

৮. পর্যটক এক্সপ্রেস কি পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য নিরাপদ?

হ্যাঁ, এটি নিরাপদ, দ্রুত এবং পরিবারবান্ধব।

TrainGuideBD

At TrainGuideBD, our mission is simple: to make your train travel experience in Bangladesh easier, faster, and more convenient.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment