এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, কোথায় থামে, অফ ডে, রুট – সম্পূর্ণ গাইড
বাংলাদেশে যারা প্রতিদিন ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ বা কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন, তাদের কাছে এগারসিন্ধুর প্রভাতী এক্সপ্রেস একটি ভরসার নাম। এই ট্রেনটি সকালবেলার যাত্রীদের জন্য যেন এক বন্ধুর মতো। কারণ এটি শুধু সময়মতো চলেই না, বরং আরামদায়ক এবং নিরাপদ ভ্রমণও নিশ্চিত করে। অনেকেই প্রতিদিন কাজ, ব্যবসা, পড়াশোনা বা পরিবারের প্রয়োজনে এই রুটে যাতায়াত করেন। তাই এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, কোথায় থামে, অফ ডে, রুট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকাটা খুবই জরুরি।
আমি আজ আপনাকে একদম সহজ ভাষায়, নিজের অভিজ্ঞতার মতো করে সব বিস্তারিত জানাবো। যেন আপনি নিজেই বুঝে নিতে পারেন কখন ট্রেনে উঠবেন, কত ভাড়া লাগবে এবং পথে কোথায় কোথায় থামে।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন পরিচিতি – কেন এটি যাত্রীদের কাছে এত জনপ্রিয়
এগারসিন্ধুর প্রভাতী সাধারণত তাদের জন্য উপযুক্ত যারা সকালে যাত্রা করেন এবং দুপুরের আগেই গন্তব্যে পৌঁছাতে চান। সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ট্রেন ধরার একটি আলাদা অনুভূতি আছে। মানুষ তখন দিন শুরু করে, বাতাস থাকে ঠান্ডা, ভিড়ও তুলনামূলক কম। এ সময় ভ্রমণ করলে অনেকেরই মনে হয় দিনের সূচনা ভালো হলো।
এই ট্রেনটি ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় চলাচল করে। দুই দিকেই যাত্রীর সংখ্যা বেশ বেশি। অনেকেই বলেন, ট্রেনটি যেন এই রুটের মানুষের জন্য এক দয়ার দরজা। কারণ একই সাথে সাশ্রয়ী, আরামদায়ক এবং নির্ভরযোগ্য।
আরেকটি বিষয় হলো—এই রুটে যাতায়াতের জন্য ট্রেনই সবচেয়ে দ্রুত ও নিরাপদ অপশন। রাস্তার যানজট, দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি, গাড়ির ভাড়া—সব মিলিয়ে ট্রেনই অনেকের পছন্দ। তাই প্রতিদিন হাজারো মানুষ এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের সময়সূচী দেখে আগেই পরিকল্পনা করেন।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের রুট – কোন পথ দিয়ে চলে
কোনো ট্রেন সম্পর্কে জানতে হলে সবচেয়ে আগে তার রুট জানা দরকার। এই রুট জানা থাকলে আপনি ঠিক করতে পারবেন কোথায় উঠবেন, কোথায় নামবেন এবং কত সময় লাগতে পারে।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী মূলত ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে যাতায়াত করে। এটি ঢাকা থেকে ছাড়ার পর বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব হয়ে কিশোরগঞ্জে পৌঁছে। পথে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে। ধানক্ষেত, ব্রহ্মপুত্র নদী, গ্রামাঞ্চলের শান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে এই রুটের ভ্রমণ খুবই মনোমুগ্ধকর।
এই রুটটি নিয়মিত যাত্রীদের কাছে খুব পরিচিত। বিশেষ করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্র ও ঘুরতে যাওয়া ভ্রমণপ্রেমীরা এই রুটে বেশি ভ্রমণ করেন।
নীচে সহজভাবে মূল রুটটি দেওয়া হলো:
- ঢাকা
- বিমানবন্দর
- নরসিংদী
- ভৈরব বাজার
- কুলিয়ারচর
- বাজিতপুর
- সরারচর
- মানিকখালি
- গচিহাটা
- কিশোরগঞ্জ
এই পথটি মোটামুটি ৪ ঘণ্টার ভ্রমণ। তবে দিনভেদে ট্রাফিক, ট্রেনের ব্যস্ততা বা সিগনালের কারণে কখনও কখনও সময় কিছুটা বাড়তে পারে।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের সময়সূচী – সম্পূর্ণ তালিকা
এই অংশটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সময় জেনে না নিলে ট্রেন মিস করা খুবই সাধারণ ঘটনা। অনেকেই প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে দেখেন ট্রেন চলে গেছে। তাই সময় জানা প্রয়োজন।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের সময়সূচী মোটামুটি স্থির থাকে। তবে বিশেষ দিন, সরকারি ছুটি বা কোনো রক্ষণাবেক্ষণ কাজ থাকলে সময় পরিবর্তন হতে পারে।
নিচে আপনাকে পরিষ্কার টেবিল আকারে সময়সূচী দিচ্ছি।
ঢাকা টু কিশোরগঞ্জ সময়সূচী
| রুট | অফ ডে | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| ঢাকা → কিশোরগঞ্জ | বুধবার | ০৭:১৫ | ১১:১৫ |
কিশোরগঞ্জ টু ঢাকা সময়সূচী
| রুট | অফ ডে | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
|---|---|---|---|
| কিশোরগঞ্জ → ঢাকা | নেই | ০৬:৩০ | ১০:৪০ |
এখানে একটি বিষয় চোখে পড়ার মতো—কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে কোনো অফ ডে নেই। অর্থাৎ প্রতিদিন সকাল ৬:৩০-এ ট্রেন পাওয়া যায়।
অন্যদিকে ঢাকা থেকে ট্রেন সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকে—বুধবার। তাই অনেকে সপ্তাহের পরিকল্পনা করার আগে এটি মাথায় রাখেন।
এই সময়সূচী জানা থাকলে আপনার যাত্রা উপভোগ্য ও ঝামেলাহীন হবে। অনেকেই সময়ের আগে স্টেশনে চলে আসেন, যাতে ভিড় কম থাকে এবং বসার জায়গা পেতে সুবিধা হয়।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন কোথায় কোথায় থামে – স্টেশন ও সময়ের তালিকা
প্রতিটি স্টেশনের থামার সময় জানা যাত্রীদের জন্য খুব দরকারি। কেউ নরসিংদীতে নামবেন, কেউ ভৈরবে উঠবেন—এমন নানা অবস্থা থাকে।
নিচে একটি পরিষ্কার টেবিল দিচ্ছি যেখানে উল্লেখ আছে এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের সময়সূচী ও বিরতিস্থান।
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী (৭৩৭ নম্বর)
| বিরতি স্টেশন | সময় |
|---|---|
| বিমানবন্দর | ০৭:৪২ |
| নরসিংদী | ০৮:৩১ |
| ভৈরব বাজার | ০৯:০৬ |
| কুলিয়ারচর | ০৯:৪৮ |
| বাজিতপুর | ০৯:৫৮ |
| সরারচর | ১০:০৮ |
| মানিক খালি | ১০:৩০ |
| গচিহাটা | ১০:৪২ |
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী (৭৩৮ নম্বর)
| বিরতি স্টেশন | সময় |
|---|---|
| গচিহাটা | ০৬:৪৬ |
| মানিক খালি | ০৬:৫৮ |
| সরারচর | ০৭:২০ |
| বাজিতপুর | ০৭:৩০ |
| কুলিয়ারচর | ০৭:৪১ |
| ভৈরব বাজার | ০৮:১০ |
| নরসিংদী | ০৯:১০ |
| বিমানবন্দর | ০৯:৫৫ |
এই তথ্যগুলো আপনার যাত্রাকে আরও সহজ করে দেবে। কেউ যদি বিমানে এসে সরাসরি কিশোরগঞ্জ যেতে চান, তাহলেও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সহজেই ট্রেনে উঠতে পারবেন।
যারা নরসিংদী, ভৈরব, কুলিয়ারচর বা বাজিতপুরে নিয়মিত যাতায়াত করেন তাদের জন্য এই ট্রেন যেন আশীর্বাদ। কারণ এটি প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে থামে।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা – কোন সিটের ভাড়া কত
টিকিটের দাম জানাটা সবচেয়ে জরুরি বিষয়। ট্রেনের ভাড়া সাধারণত সবার সাধ্যের মধ্যে থাকে। তাই মধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের মানুষও সহজেই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারেন।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনে সাধারণত তিন ধরনের সিট থাকে—শোভন, শোভন চেয়ার এবং প্রথম সিট। প্রতিটি সিটের দাম আলাদা। যাত্রীদের প্রয়োজন এবং বাজেট অনুযায়ী তারা সিট নির্বাচন করতে পারেন।
নিচে সম্পূর্ণ ভাড়ার তালিকা টেবিলে দেয়া হলো:
| স্টেশন | শোভন | শোভন চেয়ার | প্রথম সিট |
|---|---|---|---|
| নরসিংদী | ৫৫ | ৬৫ | ৮৫ |
| ভৈরব বাজার | ৮০ | ৯৫ | ১২৫ |
| কুলিয়ারচর | ৯৫ | ১১০ | ১৫০ |
| বাজিতপুর | ৯৫ | ১১৫ | ১৫৫ |
| সরারচর | ১০০ | ১২০ | ১৫৫ |
| মানিক খালি | ১০৫ | ১২৫ | ১৭০ |
| গচিহাটা | ১১০ | ১৩০ | ১৭৫ |
| কিশোরগঞ্জ | ১২০ | ১৪০ | ১৮৫ |
ভাড়া দেখে আপনি বুঝতেই পারছেন এটি খুবই সাশ্রয়ী ট্রেন সার্ভিস। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টার পথ মাত্র ১২০–১৮৫ টাকায় যাত্রা করা যায়।
এ কারণে হাজারো যাত্রী প্রতিদিন এ ট্রেনটি ব্যবহার করেন।এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের আরামদায়ক সেবা – যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও ভ্রমণের সুবিধা।
কোনো ট্রেন সম্পর্কে জানার সময় শুধু সময়সূচী, ভাড়া বা স্টেশন জানলেই হয় না—ট্রেনে ভ্রমণ কতটা আরামদায়ক তা জানা খুব জরুরি। এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন এই রুটের যাত্রীদের জন্য বেশ আরামদায়ক সেবা দিয়ে থাকে। যদিও এটি পুরোপুরি বিলাসবহুল নয়, তবে সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণে এটি অনেকটাই কার্যকর।
ট্রেনের ভেতরের বসার ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্টাফদের আচরণ সব মিলিয়ে যাত্রীরা ভালো অভিজ্ঞতা পান। বিশেষ করে সকালে যাত্রা করা মানুষেরা চান যাত্রা যেন বেশি দেরি না হয় এবং আরাম বজায় থাকে। এই ট্রেন ঠিক সেই চাহিদাই পূরণ করে।
কেউ কাজে যাবেন, কেউ পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বের হবেন—সবারই ভরসা এই ট্রেন। কারণ যাত্রাপথে ঝাঁকুনি কম, ভিড় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকে, আর নিয়মিত যাত্রীদের জন্য এটি যেন পরিবারের একজন সদস্যের মতো।
এই কারণে অনেকেই বলেন, “এগারসিন্ধুর প্রভাতী না থাকলে সকালে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল এত সহজ হতো না।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনে যাত্রার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
ভ্রমণ সব সময় পরিকল্পনা করা উচিত। বিশেষ করে সকালে বের হলে কিছু বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তাই যাত্রার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে আপনার যাত্রা আরও আরামদায়ক হবে।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
- সময়ের অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো উচিত
- ছুটির দিনে ভিড় বেশি থাকে, তাই আগে টিকিট কাটলে সুবিধা
- সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যাগ নিয়ে না ওঠাই ভালো
- যাত্রার সময় মূল্যবান জিনিসপত্র যত্নে রাখা
- ট্রেনে উঠার সময় ধাকাধাকি না করা
- সম্ভব হলে জানলা-সংলগ্ন সিট বেছে নেওয়া
এই ছোট ছোট বিষয়গুলো যাত্রার মান বদলে দিতে পারে। যাত্রীরা প্রায়ই বলেন যে এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন সকালে বের হওয়ার জন্য খুবই উপযুক্ত। তাই আপনারও যাত্রা আরামদায়ক করতে হলে এই প্রস্তুতিগুলো জরুরি।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের অফ ডে – কোন দিন ট্রেন বন্ধ থাকে
যারা প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াত করেন তারা প্রায়ই জানতে চান কোন দিন এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন চলে না?
এই ট্রেন সপ্তাহে একদিন ঢাকাগামী পথে বন্ধ থাকে। এটি সাধারণত রক্ষণাবেক্ষণ বা নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের জন্য রাখা হয়।
অফ ডে (ঢাকা → কিশোরগঞ্জ):
- বুধবার
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ → ঢাকার পথে ট্রেন প্রতিদিনই চলে।
এটি যাত্রীদের জন্য বড় সুবিধা। কারণ কিশোরগঞ্জ থেকে সকালে ঢাকায় আসতে হলে প্রতিদিনই ট্রেন পাওয়া যায়।
অনেক সময় দেখা যায়—যাত্রীরা ভুলে বুধবার স্টেশনে চলে যান এবং ট্রেন না পেয়ে বিপাকে পড়েন। তাই অফ ডে মনে রাখা খুব জরুরি। আপনি চাইলে ফোনে ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডারও সেট করতে পারেন।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনে টিকিট কাটার নিয়ম – সহজ ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ট্রেনে ভ্রমণ এখন অনেক সহজ, কারণ অনলাইনে টিকিট কাটার সুবিধা রয়েছে।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের টিকিট আপনি দুটি উপায়ে কাটতে পারেন:
১. অনলাইনে টিকিট কেনা
অনলাইন টিকিট সুবিধা অনেকেই ব্যবহার করেন, কারণ এতে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থাকে না।
অনলাইনে টিকিট কিনলে আপনি সহজেই সিট বেছে নিতে পারেন। পেমেন্টও করা যায় বেশ কয়েকটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে।
যা করতে হবে:
- ই-টিকিট ওয়েবসাইটে প্রবেশ
- অ্যাকাউন্ট তৈরি
- যাত্রার তারিখ নির্বাচন
- রুট নির্বাচন
- সিট নির্বাচন
- পেমেন্ট সম্পন্ন
২. স্টেশনে গিয়ে টিকিট কেনা
যারা চার্জ দিতে চান না বা যারা সকালে উঠে সরাসরি ট্রেনে উঠতে চান তারা স্টেশন থেকে টিকিট কাটেন। তবে ছুটির দিনে ভিড় বেশি থাকে, তাই আগে চলে যাওয়া উচিত।
আপনি যেভাবেই টিকিট কাটেন না কেন, সময়মতো কাটলে ভ্রমণ অনেকটাই সmoother হবে।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের জনপ্রিয়তা – কেন মানুষ এই ট্রেনই বেশি বেছে নেয়
ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে আরও কিছু ট্রেন রয়েছে। কিন্তু এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর পেছনে কয়েকটি যৌক্তিক কারণ আছে।
জনপ্রিয় হওয়ার কারণ:
- সকালে চলে, তাই দিন নষ্ট হয় না
- ভাড়া খুব কম
- সময়মতো পৌঁছানোর হার বেশি
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
- নিয়মিত বিরতি স্টেশন
- যাত্রীরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় ট্রেনটিকে বিশ্বাস করেন
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ট্রেনটি সকালবেলা চলে বলে যাত্রীরা দিনের পুরোটা কাজে লাগাতে পারেন। যারা কিশোরগঞ্জে অফিস করেন কিন্তু পরিবার ঢাকায় থাকে, তারা সপ্তাহে কয়েকবার এই ট্রেনে যাতায়াত করেন। অনেকে আবার সপ্তাহান্তে ভ্রমণে যান কিশোরগঞ্জে ভৈরব বা হাওর এলাকায়। এই ট্রেন তাদের জন্যও অন্যতম পছন্দ।
এক নজরে এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের মূল তথ্য – দ্রুত বোঝার জন্য
অনেকে অনেক তথ্য পড়তে চান না, বরং একবারে সবকিছু পরিষ্কার দেখতে চান। তাদের জন্য নিচে সব মূল তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
- ট্রেনের নাম: এগারসিন্ধুর প্রভাতী এক্সপ্রেস
- রুট: ঢাকা → কিশোরগঞ্জ → ঢাকা
- ঢাকা থেকে ছাড়ে: সকাল ০৭:১৫
- কিশোরগঞ্জে পৌঁছে: ১১:১৫
- কিশোরগঞ্জ থেকে ছাড়ে: সকাল ০৬:৩০
- ঢাকায় পৌঁছে: ১০:৪০
- ঢাকা থেকে অফ ডে: বুধবার
- কিশোরগঞ্জ থেকে অফ ডে: নেই
- স্টপেজ: বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, সরারচর, মানিকখালি, গচিহাটা
- ভাড়া: ৫৫–১৮৫ টাকা
এই তালিকা দেখে যেকোনো যাত্রী সহজেই নিজের যাত্রা পরিকল্পনা করতে পারবেন।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের সম্ভাব্য সময় পরিবর্তন – যাত্রীরা যা জানবেন
বাংলাদেশে ট্রেন চলাচলে কিছু সময় পরিবর্তন বা সাময়িক বিলম্ব হতে পারে। যেমন:
- বৃষ্টির দিন
- সিগনাল সমস্যা
- লাইন মেরামত
- উৎসবকাল
- যাত্রীচাপ বেশি
এমন পরিস্থিতিতে কখনও কখনও ট্রেন কিছুটা দেরি করে।
তাই যাত্রার আগে স্টেশন থেকে বা অনলাইনে ট্রেনের অবস্থা দেখে নিলে ভালো হয়।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের নিরাপত্তা – কেন এটি নিরাপদ ভ্রমণ মাধ্যম
অনেকেই রাস্তার ভিড়, দুর্ঘটনা বা ক্লান্তিকর যাত্রার জন্য বাসের তুলনায় ট্রেনকে বেছে নেন। এই ট্রেন নিরাপত্তার দিক থেকেও ভালো। যাত্রীরা বলেন, ট্রেনে ভ্রমণে কাঁধে চাপ কম থাকে। আসনে বসে যাত্রা করা যায়। জানালার পাশে বসে সকালবেলার গ্রামাঞ্চল দেখতে দেখতে মনও ফুরফুরে থাকে। বিশেষ করে পরিবার বা বাচ্চা নিয়ে ভ্রমণ করলে ট্রেনই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
১. এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের অফ ডে কোন দিন?
ঢাকা → কিশোরগঞ্জ রুটে অফ ডে বুধবার।
কিশোরগঞ্জ → ঢাকা রুটে কোনো অফ ডে নেই।
২. ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যেতে কত সময় লাগে?
প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে।
৩. ভাড়া কত?
ভাড়া ৫৫ টাকা থেকে ১৮৫ টাকা পর্যন্ত।
সিট অনুযায়ী ভাড়া আলাদা।
৪. কোন কোন স্টেশনে ট্রেন থামে?
বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, সরারচর, মানিকখালি ও গচিহাটা।
৫. অনলাইনে টিকিট কাটা যায় কি?
হ্যাঁ, অনলাইনে টিকিট কাটা যায়।
৬. সকালে ট্রেন সময়মতো চলে কি?
সাধারণত হ্যাঁ, তবে বিশেষ দিনে কিছুটা দেরি হতে পারে।
৭. কোন সিটটি সবচেয়ে আরামদায়ক?
প্রথম সিট সবচেয়ে আরামদায়ক। তবে শোভন চেয়ারও ভালো।
শেষ কথা – এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন ভ্রমণ হবে আরও সহজ
এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেন শুধু একটি ট্রেন নয়, বরং কিশোরগঞ্জ–ঢাকা রুটের মানুষের জীবনের অংশ। প্রতিদিন সকালবেলায় হাজারো মানুষ এই ট্রেনে ভরসা করে যাত্রা করেন। এগারসিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, কোথায় থামে, অফ ডে, রুট সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা থাকলে ভ্রমণ আরও সহজ এবং আনন্দদায়ক হবে।
