ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬: ঘরমুখো মানুষের স্বস্তির বিশ্লেষণাত্মক পূর্ণাঙ্গ গাইড

By: TrainGuideBD

On: January 18, 2026

ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী

ঈদ উল-আযহা আমাদের জীবনের এক আবেগঘন সময়। এই সময় মানুষ নিজের পরিবার, স্বজন, গ্রাম এবং শেকড়ের কাছে ফিরে যেতে চায় এক অদ্ভুত টানে। শহরের ভিড়, কর্মব্যস্ততা এবং একই রুটিনের মধ্যে কয়েক মাস কাটানোর পর এই ঈদের ছুটিটাই মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ। কিন্তু ঈদযাত্রার কথা এলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে ভিড়, টিকিট সংকট, যানজট আর অসহনীয় চাপ। ঠিক এই জায়গাতেই বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ উদ্যোগ ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী যাত্রীদের জন্য স্বস্তি এনে দেয়। এই আর্টিকেলে আমি খুব সহজ ও সাবলীল ভাষায় আপনাকে জানাব ২০২৫ সালের ঈদ স্পেশাল ট্রেন, ক্যাটেল স্পেশাল, টিকিট নিয়ম, নিরাপদ ভ্রমণ এবং কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প।

পুরো লেখাটি লিখেছি যেন বন্ধু হয়ে পরামর্শ দিচ্ছি—আড্ডার মতো, আবার তথ্যভিত্তিক, আবার সহজ ভাষায়।
এছাড়া, মূল কীওয়ার্ড “ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী” নির্দিষ্ট ঘনত্বে ব্যবহার করা হয়েছে।


Table of Contents

১. ঈদের যাত্রা কেন এত চ্যালেঞ্জিং এবং কেন বিশেষ ট্রেন জরুরি

ঈদে বাড়ি ফেরার অনুভূতিটা মানুষকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। মনে হয় যত দ্রুত সম্ভব প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে যাই। কিন্তু বাস্তবতা হলো–ঈদের আগে দেশের সড়কপথে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বাসে চলাচল সময়সাপেক্ষ হয়ে যায়। কখনও মাঝপথে গাড়ির দীর্ঘ লাইন, কখনও সড়ক সংস্কারের জন্য দীর্ঘ বিলম্ব। আর এসব পরিস্থিতিতে রেলওয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। কারণ রেললাইন নির্দিষ্ট, যানজট নেই, এবং বিশাল সংখ্যক যাত্রী কম ঝুঁকিতে বহন করা সম্ভব।

প্রতি বছরই ঈদের আগে রেলস্টেশনে যে চাপ থাকে, তা সামলাতে নিয়মিত ট্রেনের সংখ্যা অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। ভিড় এমন মাত্রায় উঠে যে দাঁড়ানোর জায়গাও থাকে না—এমন দৃশ্য দেখা নতুন কিছু নয়। তাই রেলওয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী প্রকাশ করে আলাদা স্পেশাল ট্রেন চালিয়ে থাকে। এতে যাত্রীদের চাপ ভাগ হয়ে যায় এবং ভ্রমণ অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক হয়।


২. ঈদ স্পেশাল ট্রেন ২০২৬: কোন ট্রেন কখন চলবে

এ বছরের ঈদে রেলওয়ে পাঁচ জোড়া স্পেশাল ট্রেন এবং তিনটি ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এগুলোর সময়সূচি আগেভাগেই ঘোষণা করা হয়েছে যেন যাত্রীরা অনায়াসে নিজের যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারেন।

নিচের টেবিলটি দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোন ট্রেন কোন রুটে এবং কোন তারিখে চলবে।

বিশেষ ট্রেনসমূহ (২০২৬)

ট্রেন নামরুটচলাচলের সময়
চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল–১চট্টগ্রাম–চাঁদপুর–চট্টগ্রাম০৪–০৬ জুন, এবং ঈদের পরে ১৪ জুন
তিতাস স্পেশাল–৩ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ–ঢাকা০৬–১৪ জুন
শোলাকিয়া স্পেশাল–৫ভৈরববাজার–কিশোরগঞ্জ–ভৈরববাজারশুধুমাত্র ঈদের দিন
শোলাকিয়া স্পেশাল–৭ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ–ময়মনসিংহশুধুমাত্র ঈদের দিন
পার্বতীপুর স্পেশাল–৯জয়দেবপুর–পার্বতীপুর–জয়দেবপুর০৪–০৬ জুন এবং ১৪ জুন

এই সময়সূচি অনেকেই সংরক্ষণ করে রাখেন। বিশেষ করে যারা দূরের জেলায় থাকেন। অনেকেই শোলাকিয়া ঈদের নামাজে অংশ নিতে কিশোরগঞ্জে যান। তাদের জন্য বিশেষ ট্রেন সেই দিনেরই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহন।


৩. পার্বতীপুর স্পেশাল ট্রেন: ঘরমুখো মানুষের প্রধান ভরসা

ঈদের আগে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে। এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী বা গাজীপুরে কাজ করেন। তাই ঈদের আগে তারা সবাই দ্রুত বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক এ কারণেই পার্বতীপুর বিশেষ ট্রেন-৯ এবং ১০ একপ্রকার উদ্ধারকারী ভূমিকা পালন করে।

নিচে পার্বতীপুর স্পেশালের উল্লেখযোগ্য সময়সূচি দেওয়া হলো:

  • স্পেশাল–৯: জয়দেবপুর থেকে সকাল ৮:১৫ → পার্বতীপুরে পৌঁছাবে দুপুর ২:৫০
  • স্পেশাল–১০: পার্বতীপুর থেকে রাত ১০:৩০ → জয়দেবপুরে পৌঁছাবে ভোর ৪:৪৫

এই সময়গুলো যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করেই নির্ধারণ করা হয়েছে। সকালে ছেড়ে দুপুরে উত্তরবঙ্গ পৌঁছানো মানে পুরো দিন নষ্ট হয় না। আবার রাতে ফিরে ভোরে পৌঁছানো মানে শহরমুখী মানুষ নিশ্চিন্তে ট্রেনে ফিরে আসতে পারেন।

অনেক যাত্রীই বলেন, ঈদের আগে সড়কপথে যানজটে আটকে থাকার চেয়ে এই স্পেশাল ট্রেনে ওঠা যেন মুক্তির মতো অনুভূতি দেয়। শব্দ, ধুলো, গরম সবকিছু বাদ দিয়ে বরং চলন্ত ট্রেনের খোলা জানালা দিয়ে গ্রামের সবুজের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সত্যিই এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।


৪. ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন: কোরবানির পশু পরিবহনের নিরাপদ উপায়

ঈদ উল-আযহা মানেই কোরবানির পশুর বাজার। দেশজুড়ে লাখ লাখ খামারি ঈদের কয়েকদিন আগে গরু, ছাগল আনা-নেওয়া করেন। সড়কে পশুবাহী গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় যানজট হয়, আবার পশু পরিবহনের ঝুঁকিও থাকে। তাই রেলওয়ে এক বিশেষ সেবা চালু করেছে, যাকে বলা হয় ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন

২০২৫ সালে তিনটি ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন চলবে:

ট্রেন নংশুরুসময়গন্তব্যপৌঁছানোর সময়
ক্যাটেল স্পেশাল–১দেউয়ানগঞ্জ বাজার০২ জুন, ১৭:০০ঢাকা০৩ জুন, ০৩:৩০
ক্যাটেল স্পেশাল–২ইসমাইলপুর বাজার০২ জুন, ১৭:৪০ঢাকা০৩ জুন, ০৩:০০
ক্যাটেল স্পেশাল–৩দেউয়ানগঞ্জ বাজার০৩ জুন, ১৭:০০ঢাকা০৪ জুন, ০৩:৩০

এই বিশেষ ট্রেনগুলো খামারি, ব্যবসায়ী এবং পশু ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ পরিবহনের সুযোগ তৈরি করে। পশুর ক্ষতি, অস্বস্তিকর যাত্রা বা অতিরিক্ত ভাড়ার সমস্যায় পড়তে হয় না। অনেক খামারি বলেন, পশুকে ট্রেনে নিয়ে আসতে পারলে ঝুঁকি কমে এবং পশুর দামও ঠিক থাকে।


৫. অগ্রিম টিকিটের নিয়ম ও যাত্রাপথের প্রস্তুতি

ঈদের আগে টিকিট পাওয়া অনেকের কাছে একটা যুদ্ধের মতো মনে হয়। কেউ মোবাইল হাতে বসে থাকে সকাল থেকে, কেউ আবার নানা সময় চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তবে ২০২৫ সালের নিয়মগুলো যাত্রীদের জন্য আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও সহজ করা হয়েছে।

অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু:

২১ মে ২০২৫ থেকে শুরু।

  • পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেন: সকাল ৮টা
  • পূর্বাঞ্চলের ট্রেন: দুপুর ৩টা

অনলাইন টিকিট:

অগ্রিম এবং ফেরত—উভয় যাত্রার টিকিট পুরোপুরি অনলাইনে পাওয়া যাবে। এই পদ্ধতি যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক কারণ কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না।

টিকিট সীমা:

একজন যাত্রী ৮টি টিকিট কিনতে পারবেন—যাত্রা ও ফেরত মিলিয়ে।

স্ট্যান্ডিং টিকিট:

যাত্রার দিন স্টেশনে মোট আসনের ২৫% স্ট্যান্ডিং টিকিট হিসেবে বিক্রি করা হবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে টিকিট:

৭ ও ৮ জুনের টিকিট ঈদের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে বিক্রি হবে।

এই নিয়মগুলো দেখলেই বোঝা যায় রেলওয়ে চেষ্টা করছে যাত্রীদের চাপ ভাগ করে দিতে এবং একটা কম ঝামেলাপূর্ণ ভ্রমণ উপহার দিতে।


৬. ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে যাত্রীদের আবেগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা

মানুষ ঈদে বাড়ি ফেরে শুধু ছুটির জন্য নয়; একটি আবেগের কারণে। পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে কোরবানির প্রস্তুতি, ছোটদের হাসি, মাঠে ঈদের জামাত—সব মিলিয়ে একটা ভিন্ন অনুভূতি তৈরি হয়। আমি নিজে বহুবার ঈদের ঠিক আগের রাতে ট্রেনে করে বাড়ি ফিরেছি। মনে হয়েছে ট্রেনের প্রতিটি শব্দ যেন বলে দিচ্ছে—আর একটু, আর একটু, বাড়ি পৌঁছে যাব।

অনেক যাত্রী আছেন যারা রাতে ট্রেনে যাত্রা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কারণ ট্রেন কম ভিড় থাকে। আবার কেউ কেউ দিনের যাত্রা পছন্দ করেন যেন সবুজ প্রকৃতি দেখতে পারেন। এই পুরো অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিশেষ ট্রেন একটি বাড়তি স্বস্তি যোগ করে।৭. ঘরমুখো মানুষের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের প্রস্তুতি

ঈদে রেলওয়ে শুধু বিশেষ ট্রেন চালিয়েই দায়িত্ব শেষ করে না। বরং পুরো যাত্রাপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামের জন্য নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা রাখাও নিশ্চিত করা হয়। এসব ব্যবস্থা যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করে তোলে।

প্রতি বছরই দেখা যায়, বিশেষ ট্রেন চলাচলের সময় স্টেশনের ভিড় একটু বেশি থাকে। অনেকেই পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে ভ্রমণ করেন। ছোট বাচ্চা থাকলে যাত্রা আরও ঝামেলার হয়। কিন্তু রেলওয়ের সেবার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হওয়ায় এখন পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ বেশ সহজ। রেলস্টেশনে সাহায্যকারী ডেস্ক, নির্দেশনা বোর্ড ও স্পেশাল হেল্পলাইন থাকার কারণে যাত্রীরা প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পেয়ে যান।

এছাড়া ঈদের সময় অনেক যাত্রী রাতে ভ্রমণ করে। তাই রাতে আলোর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়। এসব উদ্যোগ যাত্রীদের মনে একধরনের নিশ্চয়তা দেয়। মানুষ শুধু বাড়ি ফিরতে চায় না, ফিরতে চায় নিরাপদে—এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।


৮. টিকিট কাটার টিপস: কীভাবে সহজে ঈদের টিকিট নিশ্চিত করবেন

ঈদের টিকিট পাওয়া কখনো কখনো ভাগ্যের মতো মনে হলেও সঠিক উপায়ে চেষ্টা করলে সহজেই টিকিট পাওয়া যায়। নিচে কয়েকটি কার্যকর পরামর্শ দেওয়া হলো:

১. অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই প্রস্তুত রাখুন

অনলাইন টিকিট কেনার জন্য আপনার অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই তৈরি করে রাখুন। এতে টিকিট ওপেন হবার সময় ঝামেলা কমে যায়।

২. শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবহার করুন

টিকিট ওপেন হওয়ার মিনিটেই হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে সাইটে প্রবেশ করে। তাই দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা জরুরি।

৩. পেমেন্ট মেথড আগে সেভ করে রাখুন

অনেকে টিকিট পেলেও পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়ায় টিকিট কনফার্ম করতে পারেন না। তাই আগেই পেমেন্ট পদ্ধতি সেভ করে রাখলে সমস্যা কম হয়।

৪. বিভিন্ন সময় চেষ্টা করুন

ওয়েবসাইটে চাপ কমলে টিকিট পাওয়া সহজ হয়। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেও, পরেও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

৫. ফেরত যাত্রার টিকিট আগেই পরিকল্পনা করুন

প্রত্যেকের মতো আপনিও চাইবেন ঈদের পরে সহজে শহরে ফিরতে। তাই ফেরত যাত্রার টিকিট আগেই বুক করে নেয়া উত্তম।

এই ছোট ছোট বিষয়গুলো মানলে ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হবে না।


৯. ঈদ স্পেশাল ট্রেনে ভ্রমণের প্রস্তুতি: যেগুলো অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন

ঈদের ভ্রমণ সাধারণ ভ্রমণের মতো নয়। বিশেষ ট্রেনে যাত্রীর সংখ্যা একটু বেশি থাকে, তাই প্রস্তুতিও একটু আলাদাভাবে নিতে হয়।

ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী

  • টিকিটের প্রিন্ট বা ডিজিটাল কপি
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রাসঙ্গিক কাগজ
  • সামান্য খাবার ও পানি
  • হালকা চাদর বা শাল
  • প্রয়োজনীয় ওষুধ
  • মোবাইল পাওয়ার ব্যাংক

ট্রেনে উঠার আগে নিজের ব্যাগের চেইন ঠিক আছে কি না দেখে নিন। যাত্রাপথে মূল্যবান জিনিস ব্যাগের ভেতর রাখুন। এসব বিষয় ছোট মনে হলেও ভ্রমণকে আরামদায়ক করে তোলে।


১০. কেন রেলযাত্রা এখন ঈদের সময় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে

গত কয়েক বছর ধরে রেলওয়ে যাত্রীদের আস্থার জায়গা ধরে রাখতে অনেক পরিবর্তন এনেছে। আধুনিক কোচ, সময়নিষ্ঠ চলাচল, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অনলাইন সিস্টেম—সব মিলিয়ে রেলওয়ে এখন অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।

সড়কপথের ভিড় কিংবা নৌপথের ঝুঁকি অনেককে রেলপথে আসতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে ঈদের মতো যাত্রার সময় মানুষ নিরাপদ পরিবহনকে বেশি প্রাধান্য দেয়। রেলপথে এই নিরাপত্তা ও স্বস্তি পাওয়া যায় বলেই ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মানুষ জানে, এই সময়সূচি মেনে তারা আরাম করে বাড়ি পৌঁছাতে পারবে।


১১. ঈদের ভ্রমণে সবার আগে নিরাপত্তা: নিজের জন্য কিছু নিয়ম মানা জরুরি

রেলওয়ে যতই নিরাপত্তা জোরদার করুক, নিজের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেরও। তাই ঈদের ভিড়ের সময় নিম্নলিখিত সতর্কতাগুলো মানা জরুরি:

নিজের ভ্রমণকে নিরাপদ রাখার উপায়

  • ট্রেন চলার সময় দরজার কাছে দাঁড়াবেন না
  • বগির মাঝামাঝি থাকুন
  • অপরিচিত কাউকে মূল্যবান জিনিস দেবেন না
  • সন্দেহজনক কিছু দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানান
  • বাচ্চাদের সবসময় সাথে রাখুন
  • মোবাইল চার্জ দিতে দিয়ে দূরে যাবেন না

একটু সচেতনতা আপনার এবং আপনার পরিবারের ভ্রমণকে নিশ্চিন্ত করবে।


১২. ভ্রমণ অভিজ্ঞতার মানবিক দিক: ঈদের ট্রেন এক ধরনের স্মৃতি হয়ে থাকে

ঈদে ট্রেনযাত্রা অনেকের কাছে শুধু যাতায়াত নয়, এক ধরনের স্মৃতি। খোলা জানালা দিয়ে গ্রামের দৃশ্য দেখা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়া, স্টেশনে চা খাওয়া—সব মিলিয়ে যাত্রাটা যেন একটা গল্প হয়ে ওঠে।

আমিও ছোটবেলায় বাবা-মার সঙ্গে এই বিশেষ সময়ে ট্রেনে বাড়ি যেতাম। সেই দিনের ভেতর একটা উত্তেজনা ছিল। মনে হতো ট্রেনটা যত দ্রুতই যাক, আমার কাছে ততই ধীর লাগছে—কারণ আমি খুব তাড়াতাড়ি দাদা-দাদির কাছে পৌঁছাতে চাইতাম। আজ বড় হয়েও সেই অনুভূতি আগের মতোই থাকে। ঈদ মানেই বাড়ি, পরিবার, নিজের শেকড়ে ফেরা।

ঠিক এই মানবিক আবেগই রেলওয়ের বিশেষ ট্রেন পরিষেবাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।


১৩. উপসংহার: স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী অপরিহার্য

ঈদ উল-আযহা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির একটি গভীর আবেগময় অংশ। এই সময় মানুষ শুধু ছুটি পায় না, পায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ। আর এই যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে রেলওয়ে যে বিশেষ উদ্যোগ—ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী—তা ঘরমুখো মানুষের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ ট্রেন, ক্যাটেল স্পেশাল, অনলাইন টিকিট, নিরাপত্তা, সবকিছু মিলিয়ে রেলওয়ে চেষ্টা করছে যাত্রাকে সহজ করতে। প্রতিটি বছর এই সেবা আরও উন্নত হচ্ছে, যাত্রীদের আস্থাও বাড়ছে।

সুতরাং, এ বছরের ঈদযাত্রার পরিকল্পনা করুন আগেভাগে। টিকিট কেটে নিন নির্ধারিত সময়ে। নিরাপদে ভ্রমণ করুন। পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটান—এই কামনাই রইলো।


FAQs: ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. ঈদ উল-আযহা বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী কখন প্রকাশ করা হয়?

সাধারণত ঈদের ১০–১৫ দিন আগে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ ট্রেনের সময়সূচী ঘোষণা করে।

২. ঈদ স্পেশাল ট্রেনের টিকিট কোথায় পাওয়া যায়?

অগ্রিম টিকিট সম্পূর্ণ অনলাইনে পাওয়া যায়। যাত্রার দিন স্টেশনে স্ট্যান্ডিং টিকিটও বিক্রি হয়।

৩. বিশেষ ট্রেনে কি আলাদা ভাড়া নেওয়া হয়?

সাধারণত ভাড়া একই থাকে। তবে নির্দিষ্ট কিছু রুটে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

৪. শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন কখন চলে?

শোলাকিয়া স্পেশাল শুধুমাত্র ঈদের দিন ভোরে চলে এবং একই দিনে ফেরে।

৫. ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেনে যাত্রী উঠতে পারে কি?

না, এটি শুধুমাত্র পশু পরিবহনের জন্য।

৬. অনলাইন টিকিট রিফান্ড করা যায় কি?

ঈদের অগ্রিম এবং ফেরত টিকিট রিফান্ডযোগ্য নয়।

৭. একবারে কতটি টিকিট কেনা যায়?

একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৮টি টিকিট কিনতে পারেন, যাত্রা ও ফেরত মিলিয়ে।

TrainGuideBD

At TrainGuideBD, our mission is simple: to make your train travel experience in Bangladesh easier, faster, and more convenient.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment